ভারতে লোকসভার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। অন্যদিকে, কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ও প্রখ্যাত অভিনেতা প্রকাশ রাজ।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা টানা তিন দিন ধরে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার কনট প্লেসের ‘মোয়েটস’ রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিরোধী নেতারা তিনটি বাসে করে রাজঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁরা রাজঘাটে পৌঁছান। রাহুল গান্ধী ছাড়াও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং জোটের অন্য শরিক দলের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে প্রথম দিন নির্বাচন কমিশন ও আকাশবাণী ভবনে অবস্থান এবং দ্বিতীয় দিন যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার পুলিশ বা নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের কোনো বাধা দেয়নি।
মোয়েটস রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে রাহুল গান্ধী গণমাধ্যমকে বলেন, লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রায় ৩০০ সদস্য peaceful বা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে চাইলেও তাঁদের গত দুই দিন ধরে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার ও মোহন ভাগবত তাঁদের কৃতকর্মের ফল পাবেন এবং জনগণ তা দেখবে। এদিকে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে আগামীকাল শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে যেতে পারেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তেজস্বী যাদবসহ ১৫ জন নেতার সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হলেও রাষ্ট্রপতি ১০ জনকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জ্ঞানেশ হটাও আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলেছে ককরোচ জনতা Party (সিজেপি)। আগামী ১০ অক্টোবর তাদের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগ দেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ও অভিনেতা প্রকাশ রাজ। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোও এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে।
আন্দোলন মোকাবিলায় রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে পাঁচ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শনিবার সিজেপির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০ হাজার পুলিশ ও ২৩ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পুরো লুটেন্স দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেশিয়াল রিকগনিশন এবং পুলিশের শরীরে ‘বডি ক্যাম’ বসানো হয়েছে। এছাড়া অন্য রাজ্যের শিক্ষার্থীরা যাতে এই আন্দোলনে যোগ দিতে না পারেন, সেজন্য হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশ সরকারকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবি জোরালো হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর থেকে জ্ঞানেশ কুমার দিল্লির বাইরে বেরিলি, বারানসি, লাদাখ, উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও নিজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা নিয়ে রাজউকের কাছে জবাব চেয়েছে…
রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর…
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন…
আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কোনো চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ার…
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত…
চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য…
This website uses cookies.