ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। স্নাতকপূর্ব দুই বছর মেয়াদি বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে উচ্চমাধ্যমিক বা বিএসি পাসের পর নেওয়া এসব কোর্সে শিক্ষার্থীদের কোনো বার্ষিক ফি দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে এই ঘোষণা দেন। তবে ফি বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ থামেনি, বরং তা আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
আগে এই কোর্সগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর প্রায় ২৭০ ইউরো ফি দিতে হতো। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকার ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের ১ হাজারের বেশি হাই স্কুলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ১ হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল ধর্মঘটে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২২টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল, যা গত ২৮ সেপ্টেম্বরের (১৮০টি স্কুল অবরুদ্ধ) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে কোনো না কোনোভাবে বিক্ষোভ চলছে।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ১০ দিন আগে প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে। সেখান থেকে আন্দোলনটি দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি বড় শহরে জ্বলন্ত ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্কুলেও ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি এখন নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে চলে যাচ্ছে। কেবল বৃহস্পতিবারই দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুলকর্মী এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ এখন চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে。
তবে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির প্রতি সমর্থন রয়েছে স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের। সংগঠনটির প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির সঙ্গে তারা একমত। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি অংশ শুধু ভাঙচুরে যুক্ত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১৫আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১৯
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে…
আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিনে দারুণ শুরুর পরও ব্যাটিং ধসে পড়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৮ উইকেটে…
ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটিকে যথাযথ কৌশল…
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের জামায়াতে ইসলামী সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে…
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি…
যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেবল প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত…
This website uses cookies.