Header Premium (728×90)

দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার

ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা চলে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্বেগ উভয়ই আছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তেহরানকে সুবিধা দিতে পারে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা আজ বুধবার হলেও, তার এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই এবং তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৪ সালে ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সমঝোতা করেছিলেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাঁদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা অবশিষ্ট ছিলেন, যদিও তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা মার্কিন বাহিনী জানায়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে, পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য পুনরায় সেনা পাঠানো হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে এবং পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে।

তবে ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরাক এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তিনি মনে করেন, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন জোট চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে, কারণ এতদিন মার্কিন উপস্থিতি দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

শাড়িকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা, অভিযোগ করলেন সম্মানহানির

২৮ হাজার ৮০০ টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।…

15 seconds ago

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণই মূল লক্ষ্য: মমতা

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য মুখ্য…

1 minute ago

ভারতে ভিনিসিয়ুসের প্রথম সফর: গোয়ায় খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ব্রাজিলের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের…

4 minutes ago

ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে এবং এর…

7 minutes ago

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত: জয়সোয়াল

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন…

9 minutes ago

সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে ও দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য…

22 minutes ago

This website uses cookies.