যুদ্ধের ভয়াবহতায় গাজা এখন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন, যা গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট মোট ধ্বংসাবশেষের প্রায় ২০ গুণ। এই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ কেবল পুনর্গঠন নয়, বরং এটি একটি বড় মানবিক উদ্ধার ও ফরেনসিক অভিযান। জাতিসংঘের মতে, পুরো এলাকা পরিষ্কার করতে সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের লাশ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি লাশ ও মানবদেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি দেহাবশেষ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য বিশেষ ফরেনসিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।
গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় কাজ করা জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে সমুদ্র খালি করার জন্য চামচ ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে, যা মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশের মতো। প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে, যা ত্রাণবাহী ট্রাক ও উদ্ধারকারী দলের চলাচল কিছুটা সহজ করেছে।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রতিটি ধাপে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। এর নিচে অবিস্ফোরিত বোমা, গোলাবারুদ এবং অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। এছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় ১৬ সেপ্টেম্বরের এক ঘটনায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে ১২ শিশুসহ ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এর ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।
পুনর্গঠন কাজে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। ক্রেন, বুলডোজার ও জ্বালানির ঘাটতির পাশাপাশি গাজায় সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ কাজকে আরও ধীর করে দিয়েছে। ইউএনডিপি বর্তমানে পাঁচটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও সাতটি ক্রাশার ব্যবহার করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাপ্ত নির্মাণবর্জ্য কিছুটা পিষে রাস্তা মেরামত ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের মানোন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানিজে সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ যেন নষ্ট না হয়। গাজার বাসিন্দাদের জন্য এই ধ্বংসস্তূপ কেবল নির্মাণবর্জ্য নয়, বরং তাদের জীবন ও স্মৃতির অবশেষ। আসন্ন বর্ষাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের ১১ জন সচিব বর্তমানে কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত…
লক্ষ্মীপুর জেলার ছয় থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। পাঁচ ঘণ্টার এ অভিযানে…
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সরকারি সফরে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি মার্কিন…
গাজীপুরে আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন…
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী ঘন্টিবাজার এলাকায় ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও অন্তত…
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শাহবাগ থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার…
This website uses cookies.