ঝাড়খণ্ড সরকারের জেএসএসসি-সিজিএল ২০২৪ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণায় একদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও, অন্যদিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ১,৯৭৫ জন নির্বাচিত প্রার্থী। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের একাধিক রায়ের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া এই প্রার্থীরা এখন কার্যত চাকরি হারানোর দ্বারপ্রান্তে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার এই পরীক্ষাগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে বেসরকারি সংস্থা টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
চাত্রার বাসিন্দা রঘুবেন্দ্র, যিনি আগে গয়ার একটি স্কুলে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন, জানান, সুপ্রিম কোর্টের ৫ জানুয়ারির রায়ের পর ৮ জানুয়ারি তিনি শিক্ষকতার চাকরি ছাড়েন। এখন তার বয়স সরকারি চাকরির নতুন পরীক্ষায় বসার সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আমাকে নিয়োগপত্র দিয়েছিলেন, এখন তিনিই আমার চাকরি কেড়ে নিয়েছেন। সরকার যদি আগে এই সিদ্ধান্ত নিত, তবে আমি শিক্ষকতার চাকরি ছাড়তাম না। এখন আমি না ঘরের, না ঘাটের।
কোডারমার বাসিন্দা সন্দীপ যাদব, যিনি ঝাড়খণ্ডের ভিজিল্যান্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন, জানান মঙ্গলবার তাকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তাকর্মী তার পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করা এই যুবক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি তার স্ত্রীকে বলেছেন, চাকরি আছে বলে তুমি আমাকে বিয়ে করেছিলে। এখন আমার চাকরি নেই। চাইলে তুমি এই সম্পর্ক শেষ করে দিতে পারো।
জামশেদপুরে কর্মরত দেওঘরের ললন পাণ্ডে এবং আসানসোল থেকে ঝাড়খণ্ডের এই চাকরিতে আসা গুঞ্জন সিংয়ের মতো প্রার্থীরাও একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ললন পাণ্ডে জানান, তার পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে, যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর। গুঞ্জন সিং জানান, তিনি যেকোনো তদন্ত বা নারকো টেস্টের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, আদালতের রায়ের পর নিয়োগ পাওয়ার পরও এই বাতিল সিদ্ধান্ত চরম অন্যায্য। গুঞ্জন বলেন, আমাদের চাকরি কেড়ে নিয়ে সরকার কার্যত আমাদের মেরেই ফেলেছে। গুলি করে দিলেই বরং ভালো হতো।
জেএসএসসি-সিজিএল ২০২৪ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবার পরীক্ষা নেওয়ার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এরপর পরীক্ষা বাতিল করে সেপ্টেম্বরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষার আগে কিছু প্রার্থীকে হাজারীবাগ, বোকারো, আসানসোল এমনকি নেপালে নিয়ে গিয়ে ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর মুখস্থ করানো হয়েছিল।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট সন্দেহভাজনদের বাদ দিয়ে বাকি নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টও পুরো নিয়োগ বাতিলের দাবি নাকচ করে দেয়। ওই রায়ের ভিত্তিতেই এখন নির্বাচিত প্রার্থীরা তাদের চাকরি বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছেন। নির্বাচিত প্রার্থী প্রিন্স জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই, তবে তারা তাদের চাকরি রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৩০আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৫৫
তবে সরকারের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন জেএসএসসি-সিজিএল ২০২৪-এর ১ হাজার ৯৭৫ জন নির্বাচিত প্রার্থী। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের একাধিক রায়ের পর তারা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। এখন পরীক্ষা বাতিল হলে তাদের চাকরিও কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ভোলার লালমোহনে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ইঞ্জিনচালিত টমটমের চাপায় জিসান (৭) নামের এক…
সিলেটে চা-বাগান শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে সুরক্ষায় বেসরকারি খাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট…
খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে রাজু শিকদার (২৫) নামে এক…
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের…
রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে মিয়ানমারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব…
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়েনতারার ন্যাড়া মাথার কয়েকটি ছবি সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।…
This website uses cookies.