Header Premium (728×90)

কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খানকে চিকিৎসার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হলো।

এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি দাবি করেছিলেন যে, ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদন ‘উদ্বেগজনক’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলভি জানান, তিনি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ইমরানের মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে ইমরানের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং মানসিক চাপের মাত্রা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

আরিফ আলভি আরও জানান, প্রতিবেদনে ইমরানের ঘুমের সমস্যার কথা সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, তিনি যে ওষুধগুলো সেবন করছেন তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে চেনেন উল্লেখ করে আলভি বলেন, ইমরানের দুর্বলতার জায়গা কখনোই মানসিক চাপ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে সেই চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় তিন বছরের কারাবাস ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার কারণেই তার ওপর এমন প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট জানান, ইমরানের হৃদ্‌স্পন্দন প্রতি মিনিটে ৫৪ বার। চিকিৎসকেরা এটিকে স্বাভাবিক বললেও, ইমরানের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তার হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন আলভি। একই সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণেরও দাবি জানান তিনি।

আরিফ আলভি আরও বলেন, ইমরান খানকে এখনই হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন এবং সেখানে স্বাধীন একটি চিকিৎসক প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত। সরকারি নিয়োগ করা চিকিৎসকদের ওপর ইমরানের পরিবার ও পাকিস্তানের জনগণের এককভাবে আস্থা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে ইমরানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে না পারা এবং তার কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছানোর সুযোগ না থাকা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালের পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

আখাউড়ায় ফলের বাজারে চড়া দাম, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে হিমশিম ক্রেতারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দেশি-বিদেশি ফলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে অসুস্থ,…

5 minutes ago

চোট থেকে ফিরেই নেইমারের জোড়া গোল, হার এড়ালো সান্তোস

চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই জোড়া গোল করে সান্তোসকে হার থেকে বাঁচিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে…

11 minutes ago

বগুড়ার বেশ কিছু এলাকায় শনিবার ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

বগুড়ায় জরুরি উন্নয়নকাজের জন্য আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর) বেশ কিছু এলাকায় টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ…

14 minutes ago

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষ, দরজা ভেঙে যাত্রী উদ্ধার

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল বাঁচাতে গিয়ে এনা পরিবহনের বাসের হঠাৎ ব্রেক এবং পেছনে থাকা হানিফ পরিবহনের…

23 minutes ago

ডিসির মতবিনিময় সভায় এমপির প্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতবিনিময় সভায় অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও…

26 minutes ago

দাবানলের ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ

ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলের ভয়াবহ দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার…

34 minutes ago

This website uses cookies.