Header Premium (728×90)

Categories: সারাদেশ

আখাউড়ায় ফলের বাজারে চড়া দাম, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে হিমশিম ক্রেতারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বাজারে দেশি-বিদেশি ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও অস্বাভাবিক দামের কারণে ফল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ তাদের শিশু, অসুস্থ ও বয়স্ক সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় ফল কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। সম্প্রতি পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার ফলের বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায়। এছাড়া মাল্টা ৩৫০ থেকে ৪৭০ টাকা, ডালিম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, নাশপাতি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, কমলা ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকা এবং আঙুর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি আম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং পেয়ারা ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ডাবের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।

চড়া দামের কারণে অনেক ক্রেতাই ফলের দোকানে এসে দাম শুনে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। বাজারে ফল কিনতে আসা মো. সামসুল আলম জানান, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং তাঁর জন্য নিয়মিত ফল কেনা প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম ফল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। আরেক ক্রেতা মো. বাছির মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ফল খাওয়া জরুরি হলেও বাজারে এসে দাম শুনলে ভয় লাগে। আগে যেখানে এক কেজি ফল কিনতেন, এখন একই বাজেটে তার অর্ধেক কিনতে হচ্ছে।

পরিবারের পছন্দের কথা বিবেচনা করে নিয়মিত ফল কেনা মো. এমরান হোসেন জানান, আপেল, আঙুর, কমলা ও ডালিমের দাম এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই বাজেট মেলাতে তিনি এসব ফলের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামি মাল্টা, পেঁপে ও পেয়ারা কিনছেন। ক্রেতাদের সাধারণ অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি ফলের দামও এভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংসারের সাধারণ ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, খুচরা ফল বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকারি বাজার ও অতিরিক্ত খরচকে দায়ী করছেন। সড়ক বাজারের বিক্রেতা বাহার মিয়া জানান, আড়ত বা পাইকারি বাজারে ফলের দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিবহন, সংরক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়। অপর বিক্রেতা মো. ফারুক মিয়া বলেন, তাঁরাও চান ক্রেতাদের কাছে কম দামে ফল বিক্রি করতে। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কেনা এবং যাতায়াত খরচের কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ফলের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত বাজার তদারকি বা মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের মতে, ফল কোনো শৌখিন খাবার নয়, বরং এটি শরীরের পুষ্টির একটি বড় উৎস। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা রোধে এবং সর্বস্তরের মানুষের ফল কেনা সহজ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

জীবননগর সীমান্তে ভারতে পালানোর সময় ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ৫৮-বিজিবি। গত…

3 minutes ago

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নুরুজ্জামান

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন…

3 minutes ago

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা নানা পাটেকর

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর। গোয়ার…

9 minutes ago

বাড়তি খরচে কমছে লাভ, বরিশালে সংকটে প্রতিমাশিল্পীরা

শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের মৃৎশিল্পীরা। তবে উপকরণ ও শ্রমের মূল্য…

12 minutes ago

দৌলতপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ কেন্দ্র করে সৃষ্ট মব থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে…

15 minutes ago

ট্রেনে নিখোঁজ আসামের নৃত্যশিল্পীর মরদেহ উদ্ধার

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া আসামের এক তরুণী নৃত্যশিল্পীর মরদেহ শ্রীকাকুলাম জেলার রেললাইনের…

16 minutes ago

This website uses cookies.