মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের যে তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমার জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি, সাগরপথে পাড়ি দেওয়া এবং কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারীদের নিয়ে যে বিবরণ উপস্থাপন করেছে, তা একতরফা এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রকৃত হিসাব স্পষ্ট করতে চায় মিয়ানমার।
দেশটির দাবি, ২০১৬ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের আগস্টে আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উত্তর রাখাইনের পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যাটালিয়নে সমন্বিত হামলা চালায়। এ সময় সরকারি কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজনকে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাতমাদাওকে (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী) সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। মিয়ানমারের ভাষ্যমতে, আরসার হুমকির মুখে স্থানীয় লোকজন পালিয়ে যায় এবং বিপুল সংখ্যক ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের রেকর্ড অনুযায়ী, হামলার আগে বুথিডং, মুংডো এবং রাথেডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি ‘বাঙালি’ বসবাস করত। ঘটনার পর দুই লাখের বেশি মানুষ সেখানে থেকে গেলেও পাঁচ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করছে দেশটি।
বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার জানায়, তারা দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাস্তুচ্যুতদের কেউই ফিরে আসেননি। বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে মিয়ানমার ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। এর মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং চার হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত হয়েছে। তবে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিয়ানমার স্পষ্টভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যে বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সব মানুষ তাদের দেশ থেকে এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালের অভিযানের কারণেও কিছু বাঙালি বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় মিয়ানমার ১৯৭৮-৭৯ সালে এক লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৮ জন এবং ১৯৯২-২০০৫ সালে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জনকে গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। মিয়ানমার আরও জানায়, পাইলট প্রজেক্টের আওতায় বাস্তুচ্যুতদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির জন্য তারা রাখাইন রাজ্যে একটি ‘আসুন ও দেখুন’ কার্যক্রমের আয়োজন করেছিল। বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুল চিত্রিত করায় মিয়ানমার গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দুই দেশের সমাধানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, কোচ ও…
২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু…
ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন অন্তত…
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের…
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের…
ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যর্পণসহ…
This website uses cookies.