Header Premium (728×90)

রাখাইনের পরিস্থিতি উন্নত হলে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে ইচ্ছুক মিয়ানমার

রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমারের জান্তাসমর্থিত সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এসব রোহিঙ্গা মূলত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের মুখে প্রায় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর আগে থেকেই কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বর্তমানে সেখানে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই সামরিক অভিযান ছিল গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শামিল। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই রোহিঙ্গাদের তাদের ১৩৫টি স্বীকৃত নৃগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে স্বীকার করে না, বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে আসছে।

মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের দাবি, গত জুলাই মাসের শেষ নাগাদ তারা বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর একটি তালিকা যাচাই-বাছাই করেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে। তবে তারা রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আন্তর্জাতিক তথ্যটি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছর মেয়াদী প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হলেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তা ভেস্তে যায়। ২০২৩ সালে সামরিক বাহিনী ও আরকান আর্মির মধ্যকার নতুন সংঘাতের কারণে রাখাইনের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তার সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার কথা বললেও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচি কেবল মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাইকৃত নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

জনকল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ২০…

11 minutes ago

মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী সাইদুর রহমান

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মিথ্যা অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)…

28 minutes ago

ডারউইন টেস্টে জয়ের সুবাস পেলেও কেন সতর্ক মিরাজ

ডারউইন টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও এখনই বড় জয়ের কথা বলছেন না অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।…

29 minutes ago

ক্রিয়েটরদের জন্য ফেসবুকের নতুন অ্যাপ ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত সম্পূর্ণ নতুন ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ অ্যাপ নিয়ে এসেছে ফেসবুক।

38 minutes ago

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, কারিগরি…

39 minutes ago

লালমোহনে ৭৪ কৃতি শিক্ষার্থী ও ৩৯ হাফেজকে সংবর্ধনা

ভোলার লালমোহনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৭৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৯ জন হাফেজকে…

44 minutes ago

This website uses cookies.