Header Premium (728×90)

সিঙ্গাপুরের ম্যাকরিচি রিজার্ভারে বিরল বিষধর ও বিষাক্ত সাপের দেখা

সিঙ্গাপুরের ম্যাকরিচি রিজার্ভারে বিরল প্রজাতির একটি সাপের উপস্থিতি নিয়ে অনলাইনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপটি একই সঙ্গে বিষধর ও বিষাক্ত—অর্থাৎ এটি কামড়ের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করতে সক্ষম এবং এর শরীরেও বিষাক্ত উপাদান বিদ্যমান। 'দ্য কুল ডাউন'-এর তথ্য অনুযায়ী, সাপটিকে 'ব্লু-নেকড কিলব্যাক' হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট, যখন ম্যাট চে নামের এক ব্যক্তি সাপটির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। ছবিতে সাপটিকে শিকারের একটি অংশ মুখ থেকে বের করা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিটি 'সিঙ্গাপুর ওয়াইল্ডলাইফ সাইটিংস' ফেসবুক গ্রুপে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ৪ আগস্ট সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল পার্কস বোর্ড নিশ্চিত করে যে, তারা ম্যাকরিচি নেচার ট্রেইলে সাপটির উপস্থিতির বিষয়ে অবগত এবং তারা এর বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করেছে।

ন্যাশনাল পার্কস বোর্ডের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক হাও চুন বেং জানান, ব্লু-নেকড কিলব্যাক সাপ সাধারণত সেন্ট্রাল নেচার রিজার্ভের পরিণত গৌণ বন, প্রাথমিক বন, জলাভূমি এবং পার্শ্ববর্তী প্রাকৃতিক পার্কগুলোতে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এই সাপের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে কমলা-বাদামি রং, নীল ঘাড় এবং পিঠের ওপর দিয়ে পেছনের দিকে নেমে যাওয়া একটি সরু কালো দাগ।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লি কং চিয়ান ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ড. অ্যালেক্স ফিগুয়েরোয়া জানান, এই সাপ সাধারণত বনের ঝরনা বা জলধারার আশেপাশে বাস করে এবং মূলত ব্যাঙ খেয়ে জীবনধারণ করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের অনুপ্রবেশ বা প্রাণীকে বিরক্ত করা হলে সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। বিবিসি ফিউচারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আতঙ্কিত বা বিরক্ত হলে সাপ আত্মরক্ষার্থে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে, যা মানুষ ও প্রাণী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে এবং অন্তত ১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে সরে যেতে হবে। সাপটিকে নিজে থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে; ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো কারণে এর কাছে যাওয়া বা ধরার চেষ্টা করা একেবারেই উচিত নয়। ড. ফিগুয়েরোয়া বলেন, এই প্রজাতি বিষধর হওয়ায় এটি ধরার দায়িত্ব কেবল বিশেষজ্ঞদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। এছাড়া পোষা প্রাণীর মালিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের প্রাণীগুলো সাপটিকে বিরক্ত না করে। বিশেষ করে বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকায় এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

পাবনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে পাবনায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রাণঘাতী এই রোগ…

7 minutes ago

বোরকা পরে ছদ্মবেশে উত্তরখান ভূমি অফিস পরিদর্শনে ডিসি ফরিদা

সেবার প্রকৃত চিত্র জানতে পরিচয় গোপন করে বোরকা পরে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেছেন…

8 minutes ago

গোপনে আরব আমিরাত সফর করলেন নেতানিয়াহু, নেপথ্যে ইরান ও বিতর্ক

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট…

27 minutes ago

সৈয়দপুরে ইএমই কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

সৈয়দপুর সেনানিবাসের ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইএমই কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন ও ষষ্ঠ…

39 minutes ago

নিখোঁজ শিশু জিসান উদ্ধার, পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি

রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে পুলিশের…

1 hour ago

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা, রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসা বিলম্বিত

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ বিলম্বিত হয়েছে।…

1 hour ago

This website uses cookies.