দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় খোলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে। কুয়ালালামপুরের দেওয়া শর্ত পূরণ না করা এবং মানব পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকটি বাংলাদেশি এজেন্সির নাম এই তালিকায় স্থান পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অতি সামান্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং আবারও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস (FWCMS) গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে। যদিও কর্মী পাঠানোর জন্য কুয়ালালামপুর মোট ১০টি প্রাথমিক শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো মানব পাচার বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বা আইনি রেকর্ড থাকা যাবে না। কিন্তু এই তালিকায় জায়গা পাওয়া অন্তত চারটি এজেন্সির বিরুদ্ধে নারী পাচারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগে মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। এই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—রিফা ইন্টারন্যাশনাল, জেনারেল ট্রেডিং, গডনেস সার্ভিস লিমিটেড ও ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।
জানা গেছে, গত বছরের ৩ জুলাই নারী কর্মীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার এবং অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৩ জুলাই দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা বিএমইটি মহাপরিচালকের কাছে ৫৭টি এজেন্সির তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠান। সেই তালিকায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনুমতি পাওয়া এই চার বিতর্কিত এজেন্সির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অভিজ্ঞতার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। মালয়েশিয়ার শর্ত ছিল—আবেদনকারী রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স কমপক্ষে পাঁচ বছরের পুরোনো হতে হবে এবং বিগত পাঁচ বছরে অন্তত তিনটি দেশে তিন হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস এবং নিজস্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকার বাধ্যবাধকতাও ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের অনুরোধে কিছু শর্ত শিথিল করা হলেও মানব পাচার সংক্রান্ত শর্তটি অপরিবর্তিত রাখা হয়। অথচ তালিকায় স্থান পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত নগণ্য। যেমন, সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল গত তিন বছরে মাত্র ১১১ জন কর্মী পাঠিয়েছে। এছাড়া ভালুকা ওভারসিস ২৩৫ জন, বাংলাদেশ ওয়ান সার্ভিস ২৭০ জন, আল-হায়াত ওভারসিজ ৩০১ জন, অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল ৩৬০ জন, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট ওভারসিজ ৪৬৬ জন এবং এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল ৮০১ জন কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে। যেখানে প্রাথমিক শর্তে হাজার হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল, সেখানে এত কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে নির্বাচিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি দপ্তর এবং জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সূত্র অনুযায়ী, এবারের তালিকায় অন্তত ১৪টি এজেন্সি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পছন্দের তালিকায় ছিল। এর মধ্যে ৭টি এজেন্সি ২০২২ সালের আলোচিত সিন্ডিকেটের বাংলাদেশ অংশের নিয়ন্ত্রক রুহুল আমিন স্বপনের আশীর্বাদপুষ্ট। এছাড়া গতবারের সিন্ডিকেটে থাকা চারটি এজেন্সি ভিন্ন নামে এবারও তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তালিকায় স্থান পাওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যুবদলের এক নেতার স্ত্রীর মালিকানাধীন এজেন্সি, সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর তিনটি এজেন্সি এবং একজন উপদেষ্টার আত্মীয়ের বেনামী প্রতিষ্ঠান। গতবার ২৫ এজেন্সির সিন্ডিকেটে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান গ্রিনল্যান্ডের পরিবর্তে এবার তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানুর প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এজেন্সি বাছাই করার একক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে মালয়েশিয়া সরকারের। অভিজ্ঞ বা অনভিজ্ঞ যে প্রতিষ্ঠানই তালিকায় জায়গা পেয়ে থাকুক না কেন, তা মালয়েশিয়া নিজেই নির্ধারণ করেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পুরোনো সিন্ডিকেট পদ্ধতি অনুসরণ করায় আবারও কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দৌরাত্ম্য ফিরে আসতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার দেওয়া শর্তগুলোর অন্তত ছয়টি পূরণকারী ৪২৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়াকে পাঠিয়েছিল। ২০২১ সালের সমঝোতা স্মারকের আলোকে মালয়েশিয়া গত ২১ আগস্ট ২৫টি এজেন্সিকে চূড়ান্ত করে এবং পরবর্তীতে আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে 'সহযোগী এজেন্সি' হিসেবে যুক্ত করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে ১০টি এবং ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা 'সিন্ডিকেট' হিসেবে পরিচিতি পায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের মালিকানাধীন এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সরকার নির্ধারিত কর্মীপ্রতি ব্যয় ৭৯ হাজার টাকা হলেও বাস্তব খরচ ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে গত ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়, যার কারণে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সে দেশে যেতে পারেননি। শ্রমবাজারটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবি উঠেছে।
২০২২ সালের মালয়েশিয়া শ্রমবাজারেও অনভিজ্ঞ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত কম। পরবর্তীতে কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে। এসব অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তখন প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি।
হলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য ব্যাটম্যান পার্ট টু’ সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে ও বড় পরিসরে নির্মিত…
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও প্রকল্পে কর্মরত বিতর্কিত কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) অতীত…
এশিয়ান গেমসের পুরুষ কাবাডিতে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জাপানের টোকাই সিটিজেন…
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গেড়াখোলা ব্রীজ এলাকায় বাসের ধাক্কায় আকরাম বিশ্বাস নামে এক পথচারী…
সরকার ‘গণ খাতে ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে গত ২০ বছরে অনুকূল…
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা…
This website uses cookies.