Header Premium (728×90)

Categories: শিক্ষা

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দিচ্ছে সরকার, আবেদনের নিয়ম

সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টার মধ্যে এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে হবে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক পুনর্বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব আবেদনকারী ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে উভয় আবেদনই বাতিল হয়ে যাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিশেষ অনুদানের অর্থ বরাদ্দের জন্য চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যন্ত, দুর্গম, চরাঞ্চল, হাওর ও উপকূলীয় এলাকার অনেক যোগ্য প্রার্থীর অনলাইন আবেদনের সুযোগ সীমিত থাকায় এবং পর্যাপ্ত আবেদনকারী না পাওয়ায় এখন নতুন করে ম্যানুয়াল বা সরাসরি পদ্ধতিতে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, পাঠাগার উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার জন্য এই অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এই অনুদান পাবেন। এক্ষেত্রে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, এতিম, মেধাবী, অদম্য মেধাবী, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান পেতে হলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রধান শিক্ষককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। স্নাতক বা সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রার আবেদনগুলো গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাই শেষে তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর পাঠাবেন।অনলাইন ও ম্যানুয়াল আবেদনের মধ্যে দ্বৈততা এড়াতে জেলা কমিটি আগের অনলাইন সুপারিশ তালিকা ও নতুন ম্যানুয়াল তালিকা সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠাবে।আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট ছাড়াও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।জেলা কমিটি কর্তৃক যাচাই ও সুপারিশকৃত চূড়ান্ত তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর প্রাপ্ত কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

কোনো আবেদনকারী পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে থাকলে পুনরায় ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবেন না। দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে উভয় আবেদনই বাতিল বলে গণ্য হবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এই অনুদান পাবেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনে প্রতি তিন বছর পরপর আবেদন করতে পারবেন।একই সময়ে অন্য কোনো সরকারি অনুদান পেয়ে থাকলে এই অনুদানের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। তবে সাধারণ উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে।যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে নির্মাণ, সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলমান বা এই অর্থবছরে শেষ হয়েছে, তাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।অনলাইন ও ম্যানুয়াল উভয় আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের (যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই) পিতা-মাতার সঙ্গে যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং প্রাপ্তবয়স্কদের নিজস্ব নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে। এছাড়া আবেদন বা সুপারিশপ্রাপ্তিকে অনুদান পাওয়ার অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না; এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

তবে নির্ধারিতসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী না পাওয়ায় এবং প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকার অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর অনলাইনে আবেদনের সুযোগ সীমিত থাকায় নতুন করে ম্যানুয়াল আবেদন নেওয়া হচ্ছে।.যেসব ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়া হবে—১.

বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নে অনুদান দেওয়া হবে।২.

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

চুয়াডাঙ্গায় ৫০টি অসহায় পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর

চুয়াডাঙ্গায় ৫০টি হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়েছে প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন…

2 minutes ago

বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক…

10 minutes ago

শান্তিগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি জিয়াউর, সম্পাদক রেদুয়ান

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ‘হাওর, নদী এবং সবুজ বাঁচালে আমরা বাঁচি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট হাওর ও…

32 minutes ago

জাজিরায় পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালো আ.লীগ নেতাকর্মীরা

শরীয়তপুরের জাজিরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের…

35 minutes ago

এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ…

41 minutes ago

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি: বক্তারা

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন…

45 minutes ago

This website uses cookies.