দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার বর্তমানে ঋণগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘জীবনযাত্রার মান জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর সুপারিশ তৈরির প্রাক্কালে গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছিল। বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে এবং ডিজিটাল সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫০টি নমুনা এলাকা থেকে মোট ৩ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
বিবিএসের তথ্যমতে, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা, যেখানে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩১১ টাকায়। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে এই গড় আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। অঞ্চলভেদে ব্যয়ের চিত্র ভিন্ন; সিটি করপোরেশন এলাকায় গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা, শহরাঞ্চলে ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা। জরিপে দেখা গেছে, ঋণগ্রস্ত হওয়ার হারে শহর ও গ্রামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার, শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার সংসার চালাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের অর্ধেক খাবার এবং বাকি অর্ধেক খাবারবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে অঞ্চলভেদে এই চিত্র আলাদা; গ্রামাঞ্চলে খাবারের পেছনে ব্যয় বেশি, আর সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই হয় খাবারবহির্ভূত খাতে। সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান জানান, দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবের ফলে সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে একটু ভালো থাকা মানুষও এখন ঋণ করছেন, যেখানে দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খরচের জন্য ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন।
বিবিএসের মজুরি সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা টানা ৫৬ মাস ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক মন্থরতার কারণে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী অতিদারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানিসংকটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পিপিআরসি-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে, যার ফলে পরিবারগুলোকে সংসার চালানোর ঘাটতি মেটাতে হয় ঋণ করতে হচ্ছে, নয়তো সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শত্রুদের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে বলে…
ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মের পরিচয়ে নয়, বরং সবাই এই দেশের…
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হওয়ায় বারান্দা,…
চলমান শারদীয় দুর্গোৎসবে ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে…
ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরের আওয়ার লেডি অব পারপেচুয়াল হেল্প গির্জায় প্রার্থনাসভা চলাকালে মাথার ওপর ক্রুশ ভেঙে…
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল। সোমবার তিনি…
This website uses cookies.