বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রাপ্তির শর্তে উল্লেখিত সংস্কারগুলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শুরু হওয়া আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের তরফে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এই সভা আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে, যেখানে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দিয়েছে।
সভার পর ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দুয়েকটা জায়গায় যদি ‘ডিফারেন্স’ থাকে, সেখানে আমরা ‘সিক্যুয়েন্সিংয়ের’ কথা বলেছি। বিষয়টা ধাপে ধাপে সমাধান হবে।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, আমাদের সরকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। আমরা জনগণকে একটা ইশতেহার দিয়ে ক্ষমতায় আসছি। তো সেই জায়গাটায় সামঞ্জস্যের বিষয় আছে।’
আইএমএফের ঋণের শর্তগুলোর বড় অংশজুড়ে থাকে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার। এর মধ্যে জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমিয়ে বাজারমূল্যে সরবরাহের চাপ এবং কর ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে কর বসানোর চাপও থাকে।
আর্থিক সংকটের মধ্যে ২০২২ সাল থেকে কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৩ সালের প্রথম দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঋণের অঙ্ক বেড়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রথম কিস্তিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায়। এ পর্যন্ত মোট পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।
ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের আলোচনা এক বছর আটকে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করলে ঋণের শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সরকার আগের ঋণ থেকে বেরিয়ে নতুন ঋণ নেওয়ার জন্য আইএমএফের কাছে প্রস্তাব দেয়। নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ৩ জুন আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে, যদিও ঋণের অঙ্ক নিয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সেই ঋণের শর্ত ঠিক করতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র ও সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে মিশন পাঠায় আইএমএফ।
অর্থমন্ত্রী জানান, এই সভার পর ফের আইএমএফের মিশন ঢাকায় আসবে এবং তখনই মূল আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সভার ফাঁকে ফাঁকে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘অলরেডি ডায়লগ চলছে আমাদের। অনেকগুলো এরমধ্যে মিটিং হয়েছে আমাদের। কাল-পরশু এদের সঙ্গে আলোচনা আছে। তো আইএমএফের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।’
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকারের যে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে, তা মেটাতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ‘ফ্রেমওয়ার্ক, পার্টনারশিপ, ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে তো আমরা যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আগামী দিনে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে কো-অপারেশন কী হবে ওই ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মধ্যে ওটা থাকবে। একই সময়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সাপোর্ট তো দিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা নাই। আমাদের একটা সমস্যা আছে, যা জটিল হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে, তার কারণে তেল-গ্যাসের উচ্চমূল্যের যে বিপুল খরচ আমাদের, অর্থাৎ দেশকে বহন করতে হচ্ছে, তা সামাল দিতে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে অংশীদারত্ব কাঠামো, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান। তারা ঢাকায় আসবে। এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আমার মনে হয়, আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি।’
ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন…
ডারবানের কিংসমিডে সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জয়ের খুব কাছে অস্ট্রেলিয়া। ৪২১ রানের লক্ষ্য…
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ কাশেম মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার…
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সামলানো ও একক প্রার্থী নিশ্চিত করা…
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬১টি ফ্লাইট বাতিল…
প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সংকট সমাধানের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল…
This website uses cookies.