নীতিমালা লঙ্ঘন করে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেওয়া অতিরিক্ত দুটি উৎসাহ বোনাসের ১১৬ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া এই বোনাসের অর্থ আদায় করে সমন্বয়ের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে দেড় বছর ধরে এই নির্দেশ কার্যকর করতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকে বোনাস সুবিধা পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস পাওয়ার যোগ্য হলেও চাপের মুখে তাঁদের মোট পাঁচটি বোনাস দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি বোনাস মূলত এক মাসের মূল বেতনের সমান, যার আর্থিক আকার প্রায় ৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে অতিরিক্ত দুটি বোনাসের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৭ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি ও সিইও আফজাল করিমকে অবরুদ্ধ করে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঁচটি বোনাসের দাবি জানান। পরদিন ৮ আগস্ট ব্যাংকের ৮৭০তম পর্ষদ সভায় চাপের মুখে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে এই বোনাস অনুমোদন করা হয়। তবে শর্ত ছিল, ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা মন্ত্রণালয়ের আপত্তি উঠলে এই টাকা ফেরত দিতে সবাই বাধ্য থাকবেন এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা দেবেন। আন্দোলনের মুখে ২০ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী। এরপর ২৮ আগস্ট সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়ে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক ২০২৩ সালের জন্য পাঁচ বোনাস বাবদ ২৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এবং ২০২৪ সালের জন্য ৪০০ কোটি টাকার সংস্থান রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও জানায়, ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই বাড়তি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সোনালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি ও সিইও শওকত আলী খান জানিয়েছেন, এই বোনাসের সিদ্ধান্তটি তিনি যোগ দেওয়ার আগেই নেওয়া হয়েছিল। টাকা যেহেতু পরিশোধ হয়ে গেছে, তাই তাঁরা সরকারকে এটি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং আবারও একই অনুরোধ করবেন। এদিকে ব্যাংকের একজন পরিচালক মন্তব্য করেছেন, মব বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাধ্যমে আদায় করা এই টাকা কর্মীদের পকেট থেকে ফেরত আনা বাস্তবসম্মত নয় এবং উচ্চপর্যায়ের political হস্তক্ষেপ ছাড়া এর সমাধান কঠিন।
ভবিষ্যতে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ঢালাও বোনাস বন্ধ করতে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বোনাস পাওয়ার বিষয়টি আর authorities-এর মর্জির ওপর নির্ভর করবে না। চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, আমানত বৃদ্ধি, ঋণ ও অগ্রিম বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় এবং অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের মতো পাঁচটি সূচকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস দেওয়া হবে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…
সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…
রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ আসামিকে তিন…
This website uses cookies.