নতুন আমদানি নীতিমালায় পুরাতন বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আমদানিকারক সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে যেসব গাড়ি ব্যবসায়ী জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গাড়ি এনে বাংলাদেশের পরিবহন ও যানবাহন খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন, দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তৈরি করেছেন, সেই পুরোনো উদ্যোক্তারাই নতুন নীতিমালার কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। গত ২৪শে আগস্ট জারিকৃত এই নীতিমালায় কেবল নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা দেশের বিকাশমান বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং এই খাত একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়তে পারে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশের গাড়ির বাজার অনেকাংশেই জাপাননির্ভর এবং রিকন্ডিশন গাড়ির একটি বড় অংশ জাপান থেকেই আসে। পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলে কম খরচে গাড়ি আমদানি করা সম্ভব হতো, যা দেশের বাজারে এই গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করতো। আমদানিকারকদের অভিযোগ, চীন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয় এবং মেরামতের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতাও সীমিত। এর বিপরীতে জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ির ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো নেই।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ডন এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে দেশের প্রায় দেড় হাজার আমদানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তার মতে, নতুন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে যেখানে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা প্রয়োজন, সেখানে পুরাতন গাড়ির দাম তার অর্ধেক হতে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী। সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বারবিডার বর্তমান সভাপতি আব্দুল হক জানান, উন্নত অনেক দেশেই পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে এবং ডব্লিউটিওর কোনো বাধা নেই। তিনি পরামর্শ দেন যে, সরকার চাইলে ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বা মান নিয়ে শর্ত আরোপ করতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়াটা অযৌক্তিক। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪শে আগস্ট জারি করা আমদানি নীতিমালায় যানবাহন আমদানির ক্ষেত্রে বলা হয়, ৫ বছরের অধিক পুরাতন গাড়ি, মোটরকার, প্যাসেঞ্জার কার ও ট্রাক আমদানি করা যাইবে তবে পুরাতন বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাইবে না। বারভিডা সূত্র জানায়, সরকারি এই নীতিমালা জারির আগে কিছু রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি জাহাজীকরণ হয়েছিল। এগুলো খালাসের সুযোগ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলো উদ্ধারে…
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান তার শর্তগুলো মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের সময়সীমা…
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে চাল, আটা, ময়দা ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর…
ইসলামে ইবাদতের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচতে নিয়তের…
নাটোরের গুরুদাসপুরে অন্যের জমিতে ১২ বছর ধরে বসবাস করা এক দিনমজুরের পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে…
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…
This website uses cookies.