একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারকে চাপে ফেলে সয়াবিন তেলের দাম ফের বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও মিলপর্যায়ে সরবরাহ কমানোর তোড়জোড় শুরু করেছে এই চক্র। এরই মধ্যে ডিলার পর্যায়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকা বাড়ানোর জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
সরকার এখনো দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও চক্রের কারসাজিতে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম মাসের ব্যবধানে লিটারে ৬ টাকা বেড়ে ১৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৮ টাকা বেশি। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানান, দেশের ৪-৫টি বড় কোম্পানি বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে। বাড়তি মুনাফার লোভে বছরের বিভিন্ন সময়ে তারা ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে ভোক্তাদের জিম্মি করে দাম বাড়িয়ে নেয়। তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে প্রায় ৫-১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করে থাকে।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ১১ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার ১৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। কোম্পানিগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের টনপ্রতি দাম ১ হাজার ১৬৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং পাম তেলের দাম ১ হাজার ১৪৫ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৬২ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগে এই দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৮ ডলার ও ১ হাজার ২৫ ডলার। টিকে গ্রুপ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়ায় বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সঙ্গে তারতম্য রয়েছে। কারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হলেও কোনো মীমাংসা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানান, কোম্পানিগুলো দাম না বাড়ালে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
এর আগে এপ্রিলের শুরুতে মিল মালিকদের অ্যাসোসিয়েশন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ২০৭ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার ২০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮৫ টাকা এবং পাম তেল ১৭৭ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল যথাক্রমে ১৯৫ টাকা, ৯৫৫ টাকা, ১৭৬ টাকা এবং ১৬৪ টাকা। ওই সময় সিন্ডিকেট সরকারের অনুমতি পাওয়ার আগেই বাড়তি মূল্য কার্যকরের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২ এপ্রিল তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন, কিন্তু ১১ দিনেও সরবরাহ বাড়েনি। উল্টো সিন্ডিকেট সরবরাহ কমিয়ে দিলে খোলা সয়াবিনের দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩৪ টাকা বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল সরকার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়।
পাবনার ঈশ্বরদীতে ক্রেতার পরিচয়ে দোকানে ঢুকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণের মালা…
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে দুই লাখ টাকার অনুদানের…
অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদ থেকে ১৯…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা…
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনার পর…
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন…
This website uses cookies.