ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। খামারে ঢুকলেই শোনা যায় হাজার হাজার মুরগির ডাক। কেউ খাবার ছড়াচ্ছেন, কেউ ডিম সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত পাখির পরিচর্যায়। প্রতিদিনের এই চেনা ব্যস্ততাকে ঘিরেই নতুন দিনের স্বপ্ন বুনছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার পোল্ট্রি খামারিরা। কারও জন্য এটি জীবিকার প্রধান উৎস, কারও জন্য কর্মসংস্থান, আবার অনেকের কাছেই এটি স্বাবলম্বী হওয়ার সফল গল্প। তবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি এখন নানা সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
লালমোহনের বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত ডিম ও মুরগির মাংস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সরবরাহ করা হয়। এর মাধ্যমে অনেক উদ্যোক্তা নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারলেও বর্তমানে মুরগির খাদ্যের চড়া দাম, রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব, ওষুধের অতিরিক্ত খরচ এবং ডিমের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে খামারিদের প্রায়ই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি হাজী আব্দুল মালেক প্রায় ২০ একর জমিতে নিজের খামার গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার লেয়ার মুরগি, যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার ডিম উৎপাদিত হয়। তার এই খামারে কাজ করছেন ১০ জন শ্রমিক। হাজী আব্দুল মালেক জানান, মুরগির খাদ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এর ওপর রোগবালাই থেকে মুরগি বাঁচাতে নিয়মিত দামি ওষুধ দিতে হয়, যা খামার পরিচালনার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাজী আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৫ বছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে খামার পরিচালনা কিংবা মুরগির রোগবালাই নিয়ে কোনো পরামর্শ পাইনি। কাউকে কখনও খামারে এসে সরেজমিনে তদারকি করতেও দেখিনি। এত সংকটের মধ্যেও আমরা নিজেদের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের জন্য বিনা সুদে ঋণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করা হলে এই শিল্পটি আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার আরও বেশ কয়েকজন পোল্ট্রি খামারি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. খায়রুল হাসান কাঞ্চন, মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, হাজী আবু তাহের, মো. ফরিদ উদ্দিন, মো. আহমদ উল্যাহ, মো. জাকির মাতাব্বর, মো. হুমায়ুন কবির ও মো. সেলিম। তারা জানান, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। কিন্তু রোগবালাই প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পাওয়া যায় না। অথচ এসব খামার থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারিদের দাবি, পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের শত শত বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই শিল্পের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ, নিয়মিত খামার পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে লালমোহনে পোল্ট্রি শিল্পের আরও বড় ধরনের সম্প্রসারণ ঘটবে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই সম্ভাবনাময় শিল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
খামারিদের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, খামারিদের অভিযোগটি সত্য। নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিতভাবে পোল্ট্রি খামার ও মুরগির তদারকি করার কথা। কিন্তু তীব্র জনবল সংকটের কারণে আমরা খামারিদের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারছি না। তবে এই জনবল সংকট কেটে গেলে প্রতিটি খামারির দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কোনো চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ার…
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত…
চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য…
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি)…
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিমানবন্দরে প্রবাসীদের প্রতি অবহেলা বা হয়রানি…
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ…
This website uses cookies.