Header Premium (728×90)

Categories: সারাদেশ

মনপুরায় মসজিদের হিসাব নিয়ে শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ

ভোলার মনপুরা উপজেলায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আব্দুজ জাহের নামে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক উপজেলার দক্ষিণ রহমানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাঁ কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্যমতে, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। তখন মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার বিল্লালকে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করার অনুরোধ জানালে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জাহের মাস্টারকে অপমানজনক কথা বলা হলে তার ছেলে সুমন ও নূর হোসেন প্রতিবাদ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার ও সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন মিলে জাহের মাস্টার ও তার ছেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় জাহের মাস্টারের পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় জুমার নামাজ শেষ না করেই মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে হয় বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষক। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে দুই দিন মসজিদের কাজে শ্রম দিয়েছে। শুধু বিল্লালকে প্রশ্ন করায় পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত ও অনুতপ্ত। মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাদের ওপর এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…

10 minutes ago

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার…

18 minutes ago

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।…

22 minutes ago

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক

কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক…

30 minutes ago

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান…

48 minutes ago

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।…

57 minutes ago

This website uses cookies.