Header Premium (728×90)

Categories: সারাদেশ

সেতুর অভাবে চার দশক ধরে দুর্ভোগে কাজিপুরের বিয়ারা চরপাড়াবাসী

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিয়ারা চরপাড়ায় একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। পাকা সড়ক থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে অবস্থিত এই চরপাড়াটি মাঝখানে থাকা একটি খালের কারণে বর্ষাকালে প্রায় ছয় মাস মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমেও খাল পারাপারে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্ষায় খালে ১০ ফুটের বেশি পানি জমে গেলে এলাকাটি চারদিক থেকে পানিতে ঘেরা হয়ে একটি দ্বীপে পরিণত হয়।

এ সময় শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো কিংবা পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিবছর এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও তা অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াতের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে অনেক শিশু ও বয়োবৃদ্ধ পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা কুড়ান মণ্ডল খালের ওপারে বাড়ি করেন এবং পরবর্তীতে যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ সেখানে বসতি গড়েন। বর্তমানে সেখানে বেশকিছু পরিবার বসবাস করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলার রহমান আক্ষেপ করে বলেন, তার নিজের জীবন তো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এখন তার নাতি-নাতনিরা স্কুল যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পিয়ারা খাতুন জানান, একটি সেতুর জন্য গত কয়েক বছরে পৌরসভার মেয়রের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে এবং সর্বশেষ ২৬ জুলাই পৌর প্রশাসকের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। জোৎস্না খাতুন বলেন, তারা ত্রাণ চান না, শুধু একটি সেতু চান যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন।

সেতুর অভাবে এলাকাবাসীর সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিউটি খাতুন জানান, যোগাযোগব্যবস্থার দূরবস্থার কারণে বাড়িঘরের উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না এবং বিয়ের উপযুক্ত ছেলে-মেয়ে থাকলেও অনেক সময় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৩০০ মানুষ বসবাস করেন এবং এলাকায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চারটি মসজিদ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পৌরসভার অন্যান্য এলাকার তুলনায় তারা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

কাজিপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম (লিটন) জানান, ‘টেকসই উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ চার দশকের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছেন চরপাড়ার বাসিন্দারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…

4 hours ago

নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…

4 hours ago

নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…

4 hours ago

মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…

4 hours ago

টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…

4 hours ago

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…

5 hours ago

This website uses cookies.