রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশে চলমান বিদ্যুৎসংকটের জন্য বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই। এই সংকটকে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘পাপের ফল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎসংকটকে অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন এবং জনগণের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অথচ আগের সরকারের আমলে বলা হতো—‘সব বন্ধ করে দেখাই, আগে কী ছিল’। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছ থেকে বিশাল এক বিজয় পেয়েছে। যে প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভোট চুরির মাধ্যমে চিরকাল ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা ছিল আগের সরকারের। এ কারণে তারা জনগণের ভালো-মন্দ নিয়ে ভাবেনি। সরকারি কর্মকর্তারা এমন একটি সরকারের অধীনে কাজ করেছেন, যাদের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি ছিল না। তিনি বলেন, একটি সঠিক নির্বাচনীব্যবস্থা থাকলে সরকারকে সবসময় জনগণের কথা মাথায় রাখতে হয়। বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনীব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে।
সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাস পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজেরও মূল্যায়ন করা হবে এবং এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সব অংশকে যুক্ত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে যেতে হবে এবং তখন কোন ক্ষেত্রে কী কাজ করেছি, তা বলতে হবে। সেই জবাবদিহির জায়গা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেননি। মানুষের চেহারায় যদি তিনি ব্যালট পেপার দেখতেন, তবে দেশ আজ এই পরিস্থিতিতে পড়ত না।
দেশের শিশু-কিশোরদের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু-কিশোর বিভিন্ন ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে আটকে না রেখে খেলাধুলা, গান, নাচসহ বিভিন্ন সহপাঠ্য কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এসব কাজের মাধ্যমেও যে জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব, সেই ধারণাটি শিশু-কিশোরদের মনে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ দেশের শিশুরা সব ক্ষেত্রে ভালো করবে, তবে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ এবং সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকার, রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে…
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুলবাড়ীতে দুটি লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান বা কার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা। এতে স্থানীয় হাজারো…
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ১৭টি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ…
কেরানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের কোনো স্থান…
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও মজুতদারির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন…
বরগুনার বেতাগীতে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা…
This website uses cookies.