Header Premium (728×90)

নেপালে ভয়াবহ বন্যা: নতুন করে আরও দুই দফা বন্যার সতর্কবার্তা

নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়েছে। এই বিপর্যয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিজ্ঞানীরা আরও দুটি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব না হলেও ‘দ্বিতীয়’ ও ‘তৃতীয়’ আঘাত আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী জানিয়েছেন, আজ বা আগামীকাল দ্বিতীয় ও তৃতীয় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না এটি কখন ঘটতে পারে। এই বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী চীনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। বসন্ত রাজ অধিকারী আরও জানান, উচ্চ মাত্রার বৃষ্টিপাত এখন না থাকলেও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে চীন সীমান্তের কাছে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হয় এবং একই সময়ে ল্যাংটাং পর্বতের উত্তর ঢালে বড় ধরনের হিমবাহ ধস নামে। প্ল্যানেট ল্যাবসের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধসের সঙ্গে এই বিপর্যয়ের সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে ভূকম্পনের কারণে ধস নেমেছিল, নাকি বিশাল ধসের ফলেই ভূকম্পিক তরঙ্গ তৈরি হয়েছিল—এ বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের বরফ ও পাহাড়ের ঢাল আগের তুলনায় বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বর্ষার শেষ দিকে অতিরিক্ত পানির চাপও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ, পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়া এবং ভূমিধসের মতো ঘটনা বাড়ছে, যা আন্তঃসীমান্ত আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এর আগে ২০২১ সালে ভারতের চামোলি ও নেপালের মেলামচি, ২০২৩ সালে সিকিম, ২০২৪ সালে থামে এবং ২০২৫ সালে ভোতে কোশীতে একই ধরনের বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের বর্ষাতেও হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ল নেপাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক রাখা এবং আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

Recent Posts

টঙ্গীতে এসেনশিয়াল ড্রাগসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২১ ইউনিট

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থিত এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার…

15 minutes ago

ভারতে ককরোচ পার্টির দুই নেতা পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে

দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও বিক্ষোভের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতাকে পাঁচ…

18 minutes ago

ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ সম্বোধন করে বিব্রত নতুন প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভুলবশত ট্রাম্পকে…

22 minutes ago

তারেক রহমান সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি: সম্ভাবনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রাপ্তি ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনার…

25 minutes ago

তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান…

1 hour ago

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় আসছে পরিবর্তন

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ নতুন বেশ কিছু বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ…

1 hour ago

This website uses cookies.