উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে কাটেনি আতঙ্ক
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার ৩ উপজেলার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানির তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধসহ রাস্তাঘাট। বন্যাদুর্গতের শুকনা খাবার বিতরণসহ বন্যা পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কাউনিয়ার টেপামধুপুর ইউনিয়নের মরিয়ম আক্তার বলেন, তিস্তার পানিত পুকুরের মাছ, আমনের ক্ষ্যাত ভাসি গেইছে। এ্যালা হামরা সারা বছর কেমন করি চলমো। সরকার যদি কিছু সহযোগিতা না করলে হামার ম্যালা দুঃখ আছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন তিস্তা নদী বেষ্টিত। তিস্তার পানিতে ইউনিয়নবাসীরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে নিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২০ টন চাল এবং ২ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের সিকিমসহ বিভিন্ন প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রবিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ পানি ধেয়ে আসে তিস্তায়। রাত ১০টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা এ বছর তিস্তায় সর্বোচ্চ পানির উচ্চতা হিসেবে রেকর্ড করে পাউবো। এতে করে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়ন, কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া, টেপামধুপুর ইউনিয়ন এবং পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর, দ্বীপচরের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া এসব এলাকার আগাম আমন ধান, বাদাম, মরিচের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ।
এদিকে, গত আগস্ট মাস থেকে গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। গত রবিবার থেকে পানির তীব্র স্রোতের কারণে সেই বাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সোমবার দুপুর থেকে কমতে শুরু করে তিস্তার পানি। বিকাল ৩টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের আমেনা ইসলাম বলেন, রাইতোত হঠাৎ করে নদীর পানি এক্কেবারে বাড়ি গেইল। বাড়ির ছাওয়া, গরু-ছাগল নিয়া হামরা বান্দোত আশ্রয় নিছি। দিনোত আসি দেকি বাড়ির উঠানোত একহাঁটু পানি উঠছে। এ্যালা কেমন করি খাওয়া-দাওয়া করমো, কোটে থাকমো সেই চিন্তায় বাঁচি না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে তিস্তার পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এর ফলে গঙ্গাচড়ায় বন্যার অবস্থা উন্নতি হচ্ছে এবং ভাটি এলাকা কাউনিয়ার কিছু নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। আগামী ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারতের প্রদেশগুলোতে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরবরাহ করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।
ফখরুল আলম সাজু সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় নিজ বসত ঘরে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে আরশ…
জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজস্ব প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলা মদন উপজেলায় মারুফা আক্তার (২৭) নামের ১ নার্সের…
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর: আজ (১৯ এপ্রিল) রবিবার সকাল ৬টার দিকে রংপুর নগরীর আইডিয়াল মোড় সংলগ্ন…
ফখরুল আলম সাজু খুলনায় দায়িত্ব পালন কালে নিজের ব্যবহৃত রাইফেলের গুলিতে সম্রাট বিশ্বাস (৩৮) নামে…
মোঃ রাব্বি হাসান দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কালবৈশাখী ঝড়, শিলা বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ঘরবাড়ি…
ফখরুল আলম সাজু ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর তারাকুচা গ্রামে অবৈধ ভাবে কৃষি…
This website uses cookies.