Header Premium (728×90)

Categories: কৃষি

বিদেশে রফতানি হচ্ছে দিনাজপুরের কৃষক আনছার আলীর বাগানের আম

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাজারামপুর ইউনিয়নের কৃষক আনছার আলী আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষের মাধ্যমে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার বাগানে উৎপাদিত উন্নত জাতের আম এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে রফতানি হচ্ছে, যা এলাকার কৃষি উন্নয়নের জন্য একটি বড় অর্জন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আনছার আলীর এই আম চাষের যাত্রার শুরু হয় ২০২০ সালে। সে সময় তিনি থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ব্যানানা ম্যাংগো আম কিনতে গিয়ে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দাম শুনে অবাক হন। সেই উচ্চমূল্য দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি গাছ লাগিয়ে দেখবেন। ফলের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগান করার পরিকল্পনা করেন। এরপর দীর্ঘ পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তার বাগানটি বর্তমানে একটি মডেল বাগানে রূপান্তরিত হয়েছে।

বর্তমানে তার বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, চিয়াংমাই কিং অফ চাকাপাত এবং আর টু ইটুসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের আম চাষ হচ্ছে। ২০২১ সালে তার গাছে প্রথম ফল আসে এবং স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় তিনি ২০২২ সালে ৬৫০টি গাছ রোপণ করেন। ২০২৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো তার বাগানের আম বিদেশে রফতানি হয়।

নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি গ্যাপ (GAP) প্রটোকল অনুসরণ করছেন। রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার কমিয়ে ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে আম রক্ষা করা হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজালুর রহমান জানান, বাগানের মাটি পরীক্ষা, সারের সঠিক ব্যবহার এবং পানির মান নিয়মিত যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া ফ্রুট ফ্লাই দমনে ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং এমআরএল (MRL) পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

আনছার আলীর এই উদ্যোগ এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে। লিটন কুমার রায় নামের এক দর্শনার্থী জানান, ব্যাগের মধ্যে আম ঝুলিয়ে রাখার পদ্ধতিটি তার কাছে খুবই আকর্ষণীয় লেগেছে এবং তিনিও ভবিষ্যতে বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কৃষক বিমল জানান, এই আধুনিক চাষ পদ্ধতি পোকামাকড়ের আক্রমণ কমিয়ে আমের গুণগত মান নিশ্চিত করে, যা দেখে তারা উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ আশা প্রকাশ করছে যে, এই ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে আরও কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

ফেনীতে খুঁটিতে বেঁধে গৃহবধূ ও যুবদল নেতাকে নির্যাতন, আটক ৩

ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়ার অভিযোগে এক যুবদল নেতা ও গৃহবধূকে খুঁটিতে বেঁধে ১৬ ঘণ্টা শারীরিক নির্যাতনের…

5 seconds ago

লর্ডস টেস্টে স্মিথ-কক্সের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড

বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মোহাম্মদ আব্বাসের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়েও জেমি স্মিথ ও জর্ডান…

9 minutes ago

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে…

17 minutes ago

ক্যানসার আক্রান্ত দুই সন্তানের জননী আঁখির বাঁচতে প্রয়োজন সহায়তা

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী আঁখি আক্তার তিন বছর ধরে স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই…

23 minutes ago

অপপ্রচার রোধে মাঠে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বিএনপি’র সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে…

41 minutes ago

কুমিল্লায় চাঁদাবাজি ও সরকারি কাজে বাধার মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি কাজে বাধা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় কলেজ ছাত্রদল সভাপতি…

54 minutes ago

This website uses cookies.