পুলিশের জন্য ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০১:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহন সংকট দূর করতে সরকার ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় পুলিশের অভিযান পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সাধারণ ও বিশেষায়িত যানবাহন কেনা হবে। পুলিশ সদর দপ্তর দুটি পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে এই কেনাকাটা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের অভিযান পরিচালনা–সংক্রান্ত সাধারণ যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুটি প্রকল্পের আওতায় মোট ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনা হবে। এছাড়া সংকট কাটাতে পুলিশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৪৩১টি যানবাহন কেনারও উদ্যোগ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে পুলিশের বিপুলসংখ্যক যানবাহন পুড়ে নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সারা দেশে পুলিশের ৪৫৫টি যানবাহন পুড়ে যায় এবং মোট ১ হাজার ৭৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া পুরোনো অনেক গাড়ি অভিযানের সময় বিকল হয়ে পড়ে। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো ও সাজসরঞ্জাম তালিকায় (টিওঅ্যান্ডই) প্রয়োজনীয় যানবাহনের ঘাটতি থাকায় নতুন যানবাহন কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৮২৯টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯০৯টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হবে, যার প্রতিটির দাম ৮৬ লাখ টাকা ধরে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৫০১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য ২ হাজার ৭০০ সিসির ৪০০টি জিপ কেনা হবে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা দরে, যাতে ব্যয় হবে ৬৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ২ হাজার সিসির ৩৪৫টি জিপ কেনা হবে ৭৫ লাখ টাকা দরে, যার ব্যয় প্রায় ২৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ৫২ লাখ টাকা দরে ২১৪টি মাইক্রোবাস কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, এতে ব্যয় হবে প্রায় ১১১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
পুলিশ সদস্যদের যাতায়াতের জন্য ৫২ লাখ টাকা দরে ১৪৮টি নন–এসি বড় বাস এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দরে ১৪৮টি এসি মিনিবাস কেনার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ৯৫ লাখ টাকা দরে ১১৫টি প্রিজন ভ্যান, ৬৫ লাখ টাকা দরে ১০০টি প্যাট্রোল কার, ৫৫ লাখ টাকা দরে ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি স্পিডবোট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আরও প্রায় ৩০০টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব রয়েছে।
‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্পে ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার একটি বিশেষায়িত যানবাহন কেনা হবে। এর মধ্যে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ২০টি ওয়াটার ক্যানন (১২৮ কোটি টাকা), ২০টি ক্রাউড কন্ট্রোল ভেহিকেল (২২০ কোটি টাকা) এবং ১৫টি সোয়াট ভ্যান (১৮৭ কোটি টাকা) কেনার প্রস্তাব রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি বিশেষায়িত প্যাট্রোল কার, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবহনের জন্য ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি বিশেষায়িত ভ্যান এবং ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫টি প্রিজন ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া উচ্চগতিতে চলাচলের উপযোগী ২০০টি মোটরসাইকেল (১৬০ কোটি টাকা), প্রশিক্ষিত কুকুর পরিবহনের জন্য ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০টি ইউটিলিটি টেরেইন ভেহিকেল, ৫০টি অল টেরেইন ভেহিকেল এবং পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের জন্য ১০০টি হিল মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব রয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি মোবাইল সার্ভিল্যান্স গাড়ি, উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত চলাচলের জন্য ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি কুইক রেসপন্স বোট এবং ১৫টি রেসকিউ বোট কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডারদের জন্য ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৫টি কমান্ডারস সাব–আরবান ভেহিকেল, মৃতদেহ পরিবহনের জন্য ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০টি ফ্রিজার ভ্যান, নির্বাচন ও সমাবেশের জন্য ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০টি স্মল ডিপ্লয়মেন্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল এবং ঘোড়া পরিবহনের জন্য ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি বিশেষ যানবাহন কেনা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় আরও প্রায় ৫৬টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের জন্যও কিছু বিশেষায়িত যানবাহন কেনা হচ্ছে, যার অর্থ পরবর্তীতে জাতিসংঘ পরিশোধ করবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত আইজিপি মুশফেকুর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি কমিটি কাজ করেছে। তবে পরিকল্পনা কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এত বিপুল অর্থের জোগান দেওয়া এবং জ্বালানি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহনের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জিপ কেনার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নতুন যানবাহনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই ধরনের জিপ মিলিয়ে কেনা হবে মোট ৭৪৫টি।এ প্রকল্পে ৫২ লাখ টাকা দরে ২১৪টি মাইক্রোবাস কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে।
পানিতে আটকে পড়া মানুষ ও দুর্ঘটনায় পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে আরও ১৫টি রেসকিউ বোট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।.র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে, খরচ ১২২ কোটি টাকা.বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডারদের মাঠপর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৫টি কমান্ডারস সাব–আরবান ভেহিকেল কেনা হবে।




























