ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও জমি বিরোধের জের ধরে, পরিবারের দাবি নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান কৃতিত্বপূর্ণ কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা অর্জন রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত  সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে রংপুরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন কুমিল্লায় ধান কাটতে এসে শ্রমিক, গৃহকর্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা স্ত্রীকে চাকুরি করতে না দেওয়া ডিভোর্সের জের ধরে শশুর বাড়ির সবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা পাংশায় পৃথক দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন মিঠাপুকুরে ১১১ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ০১ মাদক কারবারি আটক গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের এজিএম স্থগিত, অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি কদমতলীতে সংঘর্ষে আহত পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু

গঙ্গাচড়ায় পাটখেতে নিয়ে শিশু জিসানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবি গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আটক

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।
  • আপডেট সময় : ১০:২০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫ ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

গঙ্গাচড়ায় পাটখেতে নিয়ে শিশু জিসানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবি গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আটক

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পাটখেতে নিয়ে জিসান হোসেন রাহিম (৮) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোহেল রানা (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে। তিনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবি গ্রামের বাসিন্দা

(৩০ মে) শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার একটি পাটখেত থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা প্রায় ২ বছর ধরে গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন চালাতেন। এই সুবাদে তার সঙ্গে জিসানের মা জেসমিন আরা খাতুনের পরিচয় গড়ে ওঠে। সোহেল তার উপার্জনের টাকা জেসমিনের কাছে জমা রাখতেন। সম্প্রতি জমা রাখা প্রায় ৫০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে জেসমিন তাঁকে টাকা না দিয়ে উল্টো চড় মারেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনার জের ধরে (২৯ মে) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সোহেল জিসানকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। তাকে জুতা কিনে দেওয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যান এবং পরে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পথে একটি পাটখেতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি লালমনিরহাটে নিজ বাড়িতে পালিয়ে যান।

রাত গভীর হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জিসানকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করে। এ সময় এক ছাত্র জানায়, জিসানকে এক ব্যক্তি নিয়ে গেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সোহেলের বাড়িতে যান এবং তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সোহেলকে আটক করে এবং পরে তার দেখানো স্থানে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

জিসানের এক সহপাঠী গোলাম রাব্বানী (১০) বলেন, ‘নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন ১জন লোক এসে জিসানকে নিয়ে যায়। সে প্রায়ই এসে জিসানকে নাশতা দিত, ভেবেছিলাম আজও তাই নিয়ে যাচ্ছে।’

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে এক শিক্ষক দেখতে পান জিসান রুমে নেই। পরে এক ছাত্র জানায়, তাকে তার এক আত্মীয় (কেমন মামা) নিয়ে গেছেন।’

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

গঙ্গাচড়ায় পাটখেতে নিয়ে শিশু জিসানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবি গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আটক

আপডেট সময় : ১০:২০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পাটখেতে নিয়ে জিসান হোসেন রাহিম (৮) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোহেল রানা (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে। তিনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবি গ্রামের বাসিন্দা

(৩০ মে) শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার একটি পাটখেত থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা প্রায় ২ বছর ধরে গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন চালাতেন। এই সুবাদে তার সঙ্গে জিসানের মা জেসমিন আরা খাতুনের পরিচয় গড়ে ওঠে। সোহেল তার উপার্জনের টাকা জেসমিনের কাছে জমা রাখতেন। সম্প্রতি জমা রাখা প্রায় ৫০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে জেসমিন তাঁকে টাকা না দিয়ে উল্টো চড় মারেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনার জের ধরে (২৯ মে) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সোহেল জিসানকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। তাকে জুতা কিনে দেওয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যান এবং পরে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পথে একটি পাটখেতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি লালমনিরহাটে নিজ বাড়িতে পালিয়ে যান।

রাত গভীর হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জিসানকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করে। এ সময় এক ছাত্র জানায়, জিসানকে এক ব্যক্তি নিয়ে গেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সোহেলের বাড়িতে যান এবং তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সোহেলকে আটক করে এবং পরে তার দেখানো স্থানে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

জিসানের এক সহপাঠী গোলাম রাব্বানী (১০) বলেন, ‘নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন ১জন লোক এসে জিসানকে নিয়ে যায়। সে প্রায়ই এসে জিসানকে নাশতা দিত, ভেবেছিলাম আজও তাই নিয়ে যাচ্ছে।’

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে এক শিক্ষক দেখতে পান জিসান রুমে নেই। পরে এক ছাত্র জানায়, তাকে তার এক আত্মীয় (কেমন মামা) নিয়ে গেছেন।’

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।