আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনশেষে ৮ উইকেটে ৩১৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ (যদিও প্রথম দিনের খেলা শেষে ৩১৭ রানের তথ্যও পাওয়া যায়)। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ একপর্যায়ে দারুণ অবস্থানে থাকলেও শেষ সেশনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। দিনশেষে আফগান শিবিরেরই বেশি খুশি হওয়ার কথা, কারণ প্রথম তিন ঘণ্টা শেষে তারা হয়তো এমন সমাপ্তির কথা ভাবতেও পারেনি।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। উইকেট শুষ্ক ও গরম থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা কঠিন হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান। ৩ ওভার শেষে দলের রান ছিল বিনা উইকেটে ৯। ৭ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৩২/০ রানে। এ সময় ব্যক্তিগত ৫ রানে জীবন পান সাদমান; ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে কাভারে তাঁর ক্যাচ মিস করেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। অন্য প্রান্তে ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা তানজিদ ২৪ বলে ২১ রান করেন। ১০.২ ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৬/০, যেখানে তানজিদ ৩৩ বলে ৩৮ এবং সাদমান ৩০ বলে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৪ ওভারে স্কোর হয় ৭৪/০। তানজিদ মাত্র ৪১ বলে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন, যার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে তিনি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। অন্য প্রান্তে সাদমান ৪৪ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৮ ওভারে বাংলাদেশ ওপেনিং জুটিতে ১০০ রান পূর্ণ করে (১০৩/০)। তানজিদ ৫৪ বলে ৬৬ এবং সাদমান ৩২ রানে খেলছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সাদমান ও মাহমুদুল হাসানের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম উদ্বোধনী শতরানের জুটি।
২৩ ওভারে ১২৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৮৩ রান করে ইসমত আলমের বলে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। আফগানরা কৌশল পরিবর্তন করে উইকেটকিপারকে স্টাম্পের কাছে নিয়ে আসায় তানজিদের মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এবং ষষ্ঠ স্টাম্পের লাইনে করা শর্ট বলে তিনি ক্যাচ দেন। এরপর উইকেটে আসেন মুমিনুল হক। ২৬ ওভারে প্রথম সেশন বা লাঞ্চ বিরতি শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৩৪ রান। তানজিদ ৭১ বলে ৮৩ রান করে বিদায় নিলেও সাদমান ৪১ এবং মুমিনুল ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। আফগানিস্তানের পক্ষে ইসমত আলম ১৭ রানে ১ উইকেট নেন, আর ইয়ামিন ৩৭ রানে, সেলিম ৩১ রানে এবং হাশমতউল্লাহ ২৪ রানে কোনো উইকেট পাননি।
৩৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৬৪ রান। ৫ রানে জীবন পাওয়া সাদমান টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি তুলে নেন। তবে ৩৮ ওভারে ১৮৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৬৭ রান করে মোহাম্মদ সেলিম সাফির বুকসমান উচ্চতার শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে জিয়া-উর-রহমানের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। ৪২ ওভারে মুমিনুল ৩৫ ও নাজমুল ১২ রানে অপরাজিত থাকায় দলের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২০২ রান। এরপর শুরু হয় চরম বিপর্যয়। ৪৭.৪ ওভারে ২২১ রানে পড়ে তৃতীয় উইকেট। ৩৯ রান করা মুমিনুল হক ইয়ামিন আহমদজাইয়ের লেংথ বলে কাভারে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দেন। ৫০ ওভারে ২২৪ রানে চতুর্থ উইকেট হিসেবে শূন্য রানে বোল্ড হন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। আহমদজাইয়ের মিডল স্টাম্প বরাবর ইনসুইং ইয়র্কারে পরাস্ত হন তিনি। ৫১ ওভারে ২২৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ, যখন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ২৯ রান করে স্পিনার কায়েস আহমেদের বলে আউট হন। অর্থাৎ, মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে ৯৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে যায় দল, যেখানে মেহেদী হাসান মিরাজ ০ এবং লিটন দাস ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চা-বিরতির পর ষষ্ঠ উইকেটে মিরাজ ও লিটন প্রতিরোধ গড়েন। ৬৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৬৭ রান, যেখানে এই জুটিতে আসে ৪২ রান। তবে ৭২.২ ওভারে ২৮৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৪ রান করা মিরাজ ইসমত আলমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হন। এরপর উইকেটে আসেন নাঈম হাসান। ৭৯.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৩০৩ রান। লিটন দাস ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন। আগের তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর প্রথমে ১ রান করে রসিকতা করে ব্যাট উঁচিয়ে ধরা লিটন এবার সত্যিই ফিফটি করে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন। কিন্তু ফিফটির পর মাত্র দুই বল টিকে সেলিম শাফির বলে ক্যাচ দিয়ে ৫৩ রানে আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনশেষে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৩১৬ রান সংগ্রহ করে। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান (১১) ও তাইজুল ইসলাম (৪) ব্যাটিং শুরু করবেন।
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। আইসিসির টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নাম তুলতে আফগানিস্তানের তিন বছরে ৮টি টেস্ট খেলা প্রয়োজন, যার মধ্যে এটি তাদের ষষ্ঠ ম্যাচ। ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে ছিলেন সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন। আফগানিস্তান একাদশে ছিলেন আবদুল মালিক, সেদিকউল্লাহ আতাল, রহমত শাহ (অধিনায়ক), হাশমতউল্লাহ শহীদি, ইকরাম আলিখিল, জিয়া-উর-রহমান, শহিদুল্লাহ কামাল, ইয়ামিন আহমদজাই, কাইস আহমেদ, মোহাম্মদ সেলিম সাফি ও ইসমত আলম।
দিল্লির যন্তর মন্তর ২.০ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মেট্রো ও ট্রেন চলাচল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের কড়া…
রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় এলাকা থেকে বিদেশে চাকরি ও পরীক্ষায় পাস করানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী…
ভোলার লালমোহনে এক ভাড়া বাসা থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ…
নাটোরের এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু অভিযোগ করেছেন যে, বিগত…
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহারের অভিযোগে এক চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২৬৫টি বাংলাদেশিসহ মোট…
নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আসলে একটি পরিকল্পিত নাটক…
This website uses cookies.