আজ থেকে ঠিক ২৯ বছর আগের এক ৬ আগস্ট। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেদিন হাজির হয়েছিল পুরো শ্রীলঙ্কা। সবার চোখ ছিল ঘরের ছেলে সনাৎ জয়াসুরিয়ার দিকে। ব্রায়ান লারার ৩৭৫ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ডটি ভাঙতে জয়াসুরিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৯ রান। আগের দিন ৩২৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া এই বাঁহাতি ব্যাটারকে ঘিরে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ছিল লঙ্কান সমর্থকেরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লারার গড়া সেই রেকর্ডটি ছিল গ্যারি সোর্বাসের ৩৬ বছরের পুরোনো কীর্তিকে টপকে যাওয়া। কিন্তু লারার রেকর্ডের মাত্র দুই বছরের মাথায় তা ভাঙার জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন জয়াসুরিয়া। শেষ দিনে ৩২৬ রান নিয়ে খেলতে নেমে তিনটি চার ও দুটি সিঙ্গেলসের সাহায্যে দ্রুতই ৩৪০ রানে পৌঁছে যান তিনি। কিন্তু লারার রেকর্ড থেকে যখন মাত্র ৩৬ রান দূরে, তখনই ঘটে ছন্দপতন। ভারতীয় অফ স্পিনার রাজেশ চৌহানের একটি অতিরিক্ত বাউন্স করা বল জয়াসুরিয়ার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সিলি পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডার সৌরভ গাঙ্গুলীর হাতে জমা পড়ে। আক্ষেপ নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরা জয়াসুরিয়ার যেন পা-ই চলছিল না সেদিন।
জয়াসুরিয়ার ব্যক্তিগত রেকর্ড না হওয়ার হতাশায় যারা মাঠ ছেড়েছিলেন, তারা পরে নিশ্চিতভাবেই আফসোস করেছেন। কারণ, সেদিন ব্যক্তিগত রেকর্ড হাতছাড়া হলেও টেস্ট ইতিহাসের দলীয় সর্বোচ্চ রানের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল শ্রীলঙ্কা। জয়াসুরিয়া যখন বিদায় নেন, তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬১৫ রান। ঠিক দুই বল আগে একই রানে লঙ্কানরা হারিয়েছিল তাদের দ্বিতীয় উইকেট। অনিল কুম্বলের বলে এলবিডাব্লিউ হওয়ার আগে ২২৫ রান করেন রোশান মহানামা। তার আগে জয়াসুরিয়া ও মহানামা গড়েছিলেন ৫৭৬ রানের এক মহাকাব্যিক জুটি। টেস্ট ইতিহাসে টানা দুই দিন ধরে ব্যাট করার অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন এই দুই লঙ্কান ব্যাটার।
আগের দিনই যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন তারা। ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই নিউজিল্যান্ডের অ্যান্ড্রু জোন্স ও মার্টিন ক্রোর গড়া ৪৬৭ রানের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন তারা। তবে মাত্র ১ রানের জন্য তৎকালীন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের জুটির রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেননি জয়াসুরিয়া-মহানামা। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে জুটির ৬২৪ রানের পার্টনারশিপ এই টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির রেকর্ড দুটি ভেঙে দেয়।
মহানামা ও জয়াসুরিয়ার বিদায়ের পরও শ্রীলঙ্কার রানের পাহাড় থামেনি। এরপর আরও ৩৩৭ রান যোগ করে যখন লঙ্কানরা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে, স্কোরবোর্ডে তখন জ্বলজ্বল করছিল ৯৫২ রান। এটি ছিল ১৯৩৮ সালে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের করা ৭ উইকেটে ৯০৩ রানের তৎকালীন বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে ৪৯ রান বেশি। ৫৯ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড ভেঙে শ্রীলঙ্কা যে নতুন ইতিহাস লিখেছিল, তার বয়স আজ ২৯ বছর।
বোলারদের চরম দুর্দশার এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে রেকর্ড সংগ্রহে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন অরবিন্দ ডি সিলভা, অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা ও অভিষিক্ত মাহেলা জয়াবর্ধনে। ডি সিলভা ১২৬ রান করেন, রানাতুঙ্গা খেলেন ৮৬ রানের ইনিংস এবং ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ইনিংসে জয়াবর্ধনে করেন ৬৬ রান। শ্রীলঙ্কার ইনিংস ঘোষণার পরপরই দুই দল ড্র মেনে নেয়। পুরো ম্যাচে কেবল দুটি ইনিংসই খেলা সম্ভব হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে নামার আগে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৩৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ১৭ লাখ টাকার দেনমোহর জালিয়াতি করে তা কমিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা…
আধুনিক জীবনযাত্রায় মানসিক সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতায় ইসলাম অত্যন্ত…
প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধে ইসলামের নির্দেশনা এবং দৈনন্দিন জীবনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্পদের…
পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পিত, সবুজ ও সম্ভাবনাময় আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান…
আর্থিক অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্লিং হালান্ড। ক্লাব ও…
চীনের একদল চিকিৎসক মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর ফুসফুসের একটি মারাত্মক টিউমার কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই…
This website uses cookies.