ফিফা বিশ্বকাপের বর্তমান ট্রফিটি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং এর প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে গভীর আবেগ ও শিল্পের ছোঁয়া। ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা এই ট্রফির নকশা করেছেন, যেখানে তিনি অ্যাথলেটের সংগ্রাম, ভক্তদের উল্লাস এবং বিজয়ের মুহূর্তকে সর্পিল রূপের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই নকশায় দেখা যায়, দুটি মানব অবয়ব সর্পিল আকারে ওপরের দিকে উঠে পৃথিবীকে প্রতিনিধিত্বকারী একটি গোলককে ধরে রেখেছে।
১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে মূল ট্রফিটি স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নেয়ার পর ফিফা নতুন ট্রফির নকশার জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। মিলানের ব্রেরা এলাকার স্টুডিওতে বসে গাজ্জানিগা এই নকশা তৈরি করেন। তার ছেলে জর্জিও গাজ্জানিগা জানান, তার বাবা প্রচুর স্কেচের পর এমন একটি ধারণা তৈরি করেছিলেন যেখানে পৃথিবীর নিচে ডিএনএ-এর মতো সর্পিল প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রয়াত এই ভাস্কর উয়েফা কাপ এবং ইউরোপীয় সুপার-কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিও তৈরি করেছিলেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফিটি ‘জুলেরিমে’ ট্রফি নামে পরিচিত ছিল, যা ১৯৩০ সালে প্রবর্তিত হয়। গ্রীক দেবী নাইকির অবয়ব সম্বলিত এই ট্রফিটি দুইবার চুরি হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনী থেকে চুরির পর এটি একটি কুকুরের সহায়তায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু ১৯৮৩ সালে ব্রাজিলীয় ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দফতর থেকে এটি দ্বিতীয়বার চুরি হওয়ার পর আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি, ধারণা করা হয় চোরেরা এটি গলিয়ে ফেলেছিল।
নতুন ট্রফির জন্য ৫০টিরও বেশি নমুনা জমা পড়লেও গাজ্জানিগার মডেলটিই বিচারকদের মন জয় করে। এই ট্রফির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার এবং এটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর নিচের অংশে থাকা সবুজ ম্যালাকাইটের দুটি বলয় খেলার মাঠকে নির্দেশ করে। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়ক যে ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন, তা টুর্নামেন্ট শেষে ফিফার কাছে ফেরত দিতে হয় এবং ফিফা তা সুইজারল্যান্ডে সংরক্ষণ করে। বিজয়ী দল তাদের দেশে নেয়ার জন্য স্বর্ণালী প্রলেপযুক্ত একটি রেপ্লিকা পায়।
ফিফা এখন আর কোনো দলকে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলেও মূল ট্রফিটি স্থায়ীভাবে রাখার সুযোগ দেয় না। গাজ্জানিগার নকশা করা ট্রফিটি এবার নিয়ে ১৪টি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ফিফা ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জর্জিও গাজ্জানিগা আজও ১৯৭৪ সালের সেই মুহূর্তটি মনে করেন, যখন মিউনিখে পশ্চিম জার্মানির খেলোয়াড়রা প্রথমবারের মতো তার বাবার তৈরি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিল এবং একটি সাধারণ বস্তু প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। আগামী রবিবার ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেন অথবা আর্জেন্টিনার মধ্যে যেকোনো একটি দল এই ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার গৌরব অর্জন করবে।
দেশের বনায়ন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দেশজুড়ে ১১ লাখ গাছ লাগানোর বিশেষ কর্মসূচি হাতে…
মিয়ানমারের রাখাইন উপকূল থেকে যাত্রা করা দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৩০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত…
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের…
ভ্রমণপিপাসু অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া বর্তমানে লন্ডন অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ৮টি…
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের পর…
বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। প্রায় ৬০ বছর আগে একবারই দেখা…
This website uses cookies.