সংবিধান সংশোধন নাকি গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার—এই প্রশ্নে নতুন সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকারি দল জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করলেও তাতে কোনো প্রতিনিধি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিরোধী জোট। বিরোধী দলগুলোর দাবি, নির্বাচনের দিন গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকার সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে, যাকে জনগণের রায়ের পরিপন্থী বলে মনে করছে বিরোধীরা।
এর আগে গত ১৬ই জুন সংসদের এলডি হলে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের মূল দাবি ছিল সংবিধানের সংস্কার, যার জন্য গণভোট হয়েছে। তাই সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি করা হলে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
এই বিরোধের সূত্রপাত মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার পর প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে কেন্দ্র করে। ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের স্বাক্ষরের পর ২০২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন। এই আদেশের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাবের জন্য গণভোট আয়োজনের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। কমিশনের কাজ শেষে ৮৪টি বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়, যার মধ্যে ৪৮টির জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। এই ৪৮টি বিষয়ের মধ্যে মাত্র ৯টিতে বিএনপি তাদের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল।
সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি এবং দলটির সংসদ সদস্যরাও এতে শপথ নেননি। এর পরিবর্তে গত ১৩ই জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য ৫টি প্রতিনিধি পদ রাখা হলেও তারা কোনো নাম জমা দেয়নি।
এর আগে গত ২৯শে এপ্রিল বিএনপি ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ৭ জন বিএনপি, ৫ জন অন্যান্য দল এবং ৫ জন বিরোধী দল থেকে নেওয়ার কথা ছিল। জামায়াত তখন এ বিষয়ে ভাবার জন্য সময় নিলেও পরে ১৬ই জুন জামায়াত আমীর কমিটিতে না যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। গত ২০শে সেপ্টেম্বর বিশেষ কমিটির বৈঠকের পর সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ ও সংবিধান সংশোধনী বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে দেওয়া হবে। সংস্কার পরিষদ গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে নতুন করে সংবিধান পুনর্লিখন বা সংস্কার পরিষদের প্রয়োজন পড়ে না, সংসদীয় নিয়মে সংশোধনী আনাই এক ধরনের সংস্কার।
বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই এই বিশেষ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভাও জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দল বর্জন করে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের ভোটের সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে কোনো বিকল্প প্রক্রিয়াকে জনগণের রায়ের সমতুল্য ভাবা যায় না। এছাড়া, সনদে সই না করায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদ (মার্কসবাদী)—এই চার বামপন্থি দলকে মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। খেলাফত মজলিস ও জেএসডিও এই বৈঠক বর্জন করেছে। তবে রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন বৈঠকে গিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়, বরং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবি জানাবে বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার নিয়ে আলোচনার পর গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেখানে গণভোটের রায় কার্যকর না করে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি করার কোনো ভিত্তি বা প্রয়োজন নেই। এই কারণে জামায়াত বা ১১ দলীয় ঐক্য এই কমিটিতে কোনো প্রতিনিধি দেয়নি।
এনসিপি’র নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, আগের পুরো প্রক্রিয়াকে লঙ্ঘন করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণভোটের রায়কে অমান্য করে গঠিত এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল অংশ নিতে পারে না। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এককভাবে এটি করতে চায় তবে করতে পারে, কিন্তু এর কোনো নৈতিক বৈধতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হলেই কেবল তারা শতভাগ সহযোগিতা করবেন।
বিগ বস বাংলার ঘরে রান্নাঘরের কাজ নিয়ে নন্দিনী দত্ত ও রাজবীর দে-র মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা…
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় তার…
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন…
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-এর নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও…
রাজধানীর মিরপুরে ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক…
দীর্ঘ ২৫ বছর পর বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পীদের সংগঠন টেনাশিনাসের ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন…
This website uses cookies.