প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩২। বিরোধী দলের দাবি উপেক্ষা করে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। বিরোধী দলকে বাইরে রেখেই ‘বিশেষ কমিটি’র মাধ্যমে এই সংশোধন চূড়ান্ত করতে চাইছে সরকারি দল। অবশ্য সংবিধান সংশোধনসম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল। এর মধ্যে সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে। বিএনপিসহ বাকি ১৪টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সরকারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের কোনো উদ্যোগে তারা অংশ নেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি দল এখনো বিরোধী দলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদের বিরোধী দলসহ বৃহৎ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অসন্তোষের মধ্যে রেখে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোলে তা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নিকট অতীতের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, বিরোধী দলকে সম্পৃক্ত না করে সংশোধনী প্রক্রিয়া আইনগতভাবে কার্যকর হলেও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। জুলাই বিপ্লবের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ ও পরবর্তীতে জারি করা সংস্কার আদেশের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সরকারি দল গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলেও বিরোধী দল তা বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান নেয়।
সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলেও বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ ফাঁকা রেখে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকারদলীয় জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল, বিজেপির আন্দালিভ রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অলি উল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করলেও বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দেয়নি।
কমিটি জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে, যেখানে গত ২০ সেপ্টেম্বর ১৫টি দল অংশ নেয়। তবে জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ একাধিক দল এই প্রক্রিয়া বর্জন করেছে। কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি চলতি বছরের মধ্যেই খসড়া তৈরি করে নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রিপোর্ট পেশ করবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর এমপি রফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণ সংস্কারের জন্য ভোট দিয়েছে, তাই সংশোধন প্রক্রিয়া তারা বর্জন করছেন। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক সতর্ক করেছেন যে, বৃহত্তর রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব ছাড়া সংবিধান সংশোধন করলে তা দীর্ঘমেয়াদী গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সংকটে পড়তে পারে।
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাত বছরের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ…
অর্থকষ্টে একসময় দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন অঞ্জলি আনন্দ। কিন্তু করণ জোহরের ‘রকি অউর…
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা ও কবি রিফাত চৌধুরী। চিকিৎসার অর্থ…
হরমুজ প্রণালিতে ইরান তার ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার বা বাড়াবাড়ি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পেন্টাগনের আরব…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিট পুলিশিং অফিসের সামনেই কয়েকশ লোক নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টা…
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দাপ্তরিক…
This website uses cookies.