Header Premium (728×90)

Categories: রাজনীতি

সংসদে সারের সংকট নিয়ে বিতর্ক: ‘মজুদ থাকলে কৃষক পাচ্ছে না কেন’

জাতীয় সংসদে দেশের সার সংকট ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান দেশজুড়ে তীব্র সার সংকট, কৃষকদের আতঙ্ক ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একটি নোটিশ দেন। এই আলোচনার সূত্র ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলেও আলোচনায় দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা অংশ নেননি। এমনকি সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকেও এই আলোচনায় দেখা যায়নি। নোটিশদাতা নাজিবুর রহমানসহ বিরোধী দলের দুইজন এবং সরকারি দলের পক্ষে তিন প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, যদি সারের কোনো সংকট না থাকে, তবে কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না এবং কেন তাদের কালোবাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে? কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম বলেন, সার হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণ। চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী অতিরিক্ত মজুদ থাকার পরও কৃষকদের হাহাকার তাদের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে। তিনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রৌমারীতে কৃষকদের গোডাউন লুট এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের অসন্তোষের কথা সংসদে তুলে ধরেন।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সারের সংকটের মধ্যেও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউন সার দিয়ে ভর্তি রয়েছে। তিনি ২০০১-২০০৬ সালের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তখন এক বস্তা সারের জন্য কৃষকদের গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল। নোটিশদাতা নাজিবুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের সময়ও সরকার বলেছিল লোডশেডিং নেই, কিন্তু পরে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন কিছুই করার নেই। সারের ক্ষেত্রেও একই বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে। সরকার সার কারখানা বন্ধ রেখে জনগণের টাকায় বেশি দামে সার আমদানি করছে এবং মজুদ থাকার কথা বললেও তা কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

এদিকে সরকারি দলের পক্ষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার এখনো বহাল আছেন এবং অনেকে পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯টি সারের ডিলার পয়েন্ট শূন্য রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করছে। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মজুদ বেশি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে সারের দাম বেশি হওয়ায় কিছু সার পাচার হওয়ার তথ্য রয়েছে এবং এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, সার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ৬৪টি জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের আবেদনের শেষ সময় আগামীকাল। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৫১ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন সার রয়েছে, যা চাহিদা মিটিয়ে ১৫ দশমিক 8৪ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত থাকবে। কৃষকদের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলায় প্রথম ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেছেন, যা সারের অপচয় রোধ করবে। তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যিনি সার নিয়ে কথা বলে সভা ত্যাগ করেছেন, তার বক্তব্য শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উকিল আবদুস সাত্তারের কথা মনে পড়ে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরিফুল আলম শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার উৎপাদন, আমদানি ও মজুদ রয়েছে। বিসিআইসির সাতটি সার কারখানার মধ্যে ঘোড়াশাল-পলাশ এবং শাহজালাল সার কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। গ্যাস পাওয়ার পর চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডও (সিইউএফএল) উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে দেশে সারের কোনো তীব্র সংকট নেই। তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় আসা সার সংক্রান্ত ২০-২২টি (20-22) বিশেষ এলাকার ছোটখাট সমস্যাগুলোকে ভিত্তি করে অসন্তোষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। সাবোটাজ না করে জনগণের পক্ষে কীভাবে কাজ করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।

সার সংকটের মধ্যে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউন ভর্তি—এমন অভিযোগ করে এর সমালোচনা করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আবার সেই ২০০১–২০০৬ সালের সিনড্রোম। যখন এক বস্তা সারের পরিবর্তে কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম বলেন, সার বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণ। চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের বর্তমানে এই সংকটে সরকারের তথ্যমতে সার অতিরিক্ত মজুদ আছে। সার যদি অতিরিক্ত মজুদ থাকে তবে কৃষকরা সার পাচ্ছে না কেন এবং কেন তাদের কালোবাজারে যেতে হচ্ছে?”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)…

6 minutes ago

বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই এবং হালনাগাদের জন্য সাত…

7 minutes ago

স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্পেসএক্সের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে এয়ারলাইন সেবায় প্রবেশ করছে অ্যামাজন। ২০২৭ সাল থেকে…

14 minutes ago

নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে ভাত খাওয়া ও চুরির স্বীকারোক্তি…

37 minutes ago

বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

বার্লিন ব্রান্ডেনবার্গ বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়ের ওপর ড্রোন দেখা দেওয়ায় বুধবার ৪৫ মিনিটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ…

47 minutes ago

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে আর কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন…

54 minutes ago

This website uses cookies.