Header Premium (728×90)

অন্ধকার থেকে ফেরাতে শিশু-কিশোরদের পাশে চাই সচেতন অভিভাবক ও সমাজ

একজন শিশুর বিকাশের যাত্রা শুরু হয় কৈশোরকাল থেকে, যা জীবন গঠনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময়। এই বয়সে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের পাশাপাশি তাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটে। তীব্র আবেগ, সবকিছু জানার আগ্রহ এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার প্রবণতা এই সময়ের বৈশিষ্ট্য। তবে ঠিক-ভুল বাছাই করার পরিপক্কতা না থাকায় তারা সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বাবা-মায়ের অতিরিক্ত শাসন কিংবা ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে বন্ধুরাই তাদের কাছে সবচেয়ে আপন হয়ে ওঠে। ভুল সঙ্গের পাল্লায় পড়ে কৌতূহলবশত ধূমপান থেকে শুরু করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়া এবং পরবর্তীতে কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা এখন উদ্বেগজনক।

প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এই সংকটকে আরও গভীর করছে। বিনোদনের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইন গেমে আসক্তি, রাত জেগে গেম খেলা এবং গেমের ভেতর অশ্লীল আচরণ ও উদ্ধতপূর্ণ মনোভাব কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিচ্ছে। টিকটক বা রিলসে লাইক, ভিউ ও কমেন্ট পাওয়ার নেশা তাদের কাছে আত্মমূল্যের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয়তার লোভে অনেকে বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট তৈরি করছে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়াচ্ছে। এছাড়া সাইবার বুলিং ও ট্রলের শিকার হয়ে তারা হীনম্মন্যতা ও মানসিক চাপে ভুগছে। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাতের ফলে মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ ও একাকিত্বের মতো সমস্যাগুলো প্রকট হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে সন্তান কার সঙ্গে মিশছে বা মোবাইলে কী দেখছে, তা জানতে পারেন না। যখন তারা বিষয়টি টের পান, তখন সন্তানরা অনেকটাই অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়ে, যা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে পড়ালেখায় অমনোযোগিতা, শিক্ষাজীবন মাঝপথে থেমে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস হারানো এবং পরিবারে অশান্তি ও অর্থকষ্ট নেমে আসে। দেশ একজন সম্ভাবনাময় জনসম্পদ হারায়।

শিশু-কিশোরদের এই অন্ধকার থেকে ফেরাতে শুধু মা-বাবা বা পরিবারের দায়িত্ব পালন যথেষ্ট নয়। সমাজ কলুষিত হলে পরিবারের বাঁধন দিয়ে সন্তানকে ভালো মানুষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহপাঠীদের মাধ্যমেও সন্তান বিপথগামী হয়। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের শহরগুলোকে শিশু-কিশোরবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। উন্মুক্ত পার্ক, খেলার মাঠ, ছাদবাগান ও পশু পালনের মতো সৃজনশীল কাজে তাদের ব্যস্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার রোধে রাষ্ট্রকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭: ৪৯আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭: ৫০ একজন শিশুর বিকশিত হওয়া কৈশোরকাল থেকে শুরু হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় দুই দেশ

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। দুই দেশই…

7 minutes ago

অক্টোবরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা রেকর্ড ছুঁয়েছে

চলতি অক্টোবরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে রেকর্ড অন্তত ২৮টি হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা…

10 minutes ago

হৃদরোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিপিআর ও সচেতনতা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশন ও ভেড়ামারা সমিতির…

42 minutes ago

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ৯৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের…

46 minutes ago

ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে ৭ ফুট, বাড়ছে মহাবিপদের শঙ্কা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ৭ ফুট নিচে নেমে…

49 minutes ago

মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে…

1 hour ago

This website uses cookies.