Header Premium (728×90)

ব্যাংকিং খাতে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ

একটি দেশের অর্থনীতির মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি—সেখানে অর্জিত সম্পদ সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি আনছে। জাতীয় আয়, রিজার্ভ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন অর্থনীতির ইতিবাচক সূচক হলেও, যখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে বাজারের ব্যাগ সংকুচিত করতে হয় বা সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভাঙতে হয়, তখন সেই প্রবৃদ্ধির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঠিক এমনই এক তীব্র বৈপরীত্য দৃশ্যমান। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে যেন নতুন কোটিপতির ঢল নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। অথচ মাত্র তিন মাস আগে, মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা, যা মার্চ মাসের তুলনায় ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা বেশি।

কোটিপতি হিসাবের দীর্ঘমেয়াদী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ জন। ১৯৯০ সালে তা ৯৪৩টিতে, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টিতে এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টিতে উন্নীত হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি যদি বৈধ শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বা উৎপাদনশীল বিনিয়োগ থেকে আসত, তবে তা হতো সমৃদ্ধির লক্ষণ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়। জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি দেশে জমে থাকা দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে, তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছার মাধ্যমেই দুর্নীতিমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তবে কেবল সরকারের একার পক্ষে এই পরিবর্তন সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক প্রতিরোধ। দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও লুটপাট বন্ধ করতে পারলে দেশের সিংহভাগ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত ধনী হওয়ার ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের স্বার্থ রক্ষা করা। পরিশেষে, পরিসংখ্যানের কৃত্রিম সমৃদ্ধির চেয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের জীবনযাত্রার নিশ্চয়তাই হোক রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে

দেশের বর্ধমান চাহিদা পূরণে সরকার ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার এবং ১০ হাজার…

8 seconds ago

কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী

প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে জাকার্তায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। দলে যোগ দিয়েছেন…

8 minutes ago

ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)…

24 minutes ago

বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই এবং হালনাগাদের জন্য সাত…

25 minutes ago

স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্পেসএক্সের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে এয়ারলাইন সেবায় প্রবেশ করছে অ্যামাজন। ২০২৭ সাল থেকে…

33 minutes ago

নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে ভাত খাওয়া ও চুরির স্বীকারোক্তি…

56 minutes ago

This website uses cookies.