প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ১২
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদের দুটি মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে। একদিকে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে আইনপ্রণয়ন করা, অন্যদিকে সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এ দুই ক্ষেত্রেই কি জাতীয় সংসদ ধীরে ধীরে তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে? এটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি গভীর সাংবিধানিক সংকট।
সংবিধানের ৬৫(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে।’ এর অর্থ হলো, আইনপ্রণয়ন সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়, আমলাতন্ত্র বা নির্বাহী বিভাগের মূল দায়িত্ব নয়; চূড়ান্ত আইনপ্রণয়ন ক্ষমতার সাংবিধানিক কেন্দ্র হলো জাতীয় সংসদ। একইভাবে, সংবিধানের ৫৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।’ অর্থাৎ সংসদ শুধু আইন পাস করার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সরকারের নির্বাহী কর্মকাণ্ডের ওপর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক কেন্দ্র। তবে আইনপ্রণয়নের সাম্প্রতিক চর্চা দেখে মনে হচ্ছে, সংসদের এই সাংবিধানিক ভূমিকার সঙ্গে বাস্তব কার্যপ্রণালির একটি বিপজ্জনক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য কার্যপ্রণালি-বিধিতে বিভিন্ন স্তরে সময় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য বিধি ৭৫ অনুযায়ী সাধারণত সাত দিনের লিখিত নোটিসের বিধান রয়েছে, যদিও স্পিকার যথেষ্ট কারণ থাকলে এ সময় শিথিল করতে পারেন। এরপর বিধি ৭৭ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের পর তা অবিলম্বে বিবেচনা, নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তারিখে বিবেচনা, স্থায়ী বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো অথবা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের প্রস্তাব করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বিলের কপি না পৌঁছানো পর্যন্ত এ ধরনের প্রস্তাব করা যাবে না এবং প্রস্তাবের অন্তত তিন দিন আগে বিলের কপি সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর নিয়ম রয়েছে।
কার্যপ্রণালি-বিধির কাঠামো আইনকে ‘যত দ্রুত সম্ভব পাস’ করার জন্য তৈরি হয়নি; বরং সংসদ সদস্যদের বিল পরীক্ষা, বিতর্ক, সংশোধন এবং প্রয়োজন হলে কমিটিতে পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার জন্যই এর সৃষ্টি। বিধি ৭৮-এ বিলের নীতি ও সাধারণ বিধান নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের পরও বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। বিধি ৮০ অনুযায়ী সংসদ প্রয়োজনবোধে বিলটিকে একই কমিটিতে বা অন্য স্থায়ী কমিটিতে আবার পাঠাতে পারে; এমনকি জনমত যাচাই বা অধিকতর জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। অর্থাৎ বিধির কাঠামোতেই দেখা যাচ্ছে, আইনপ্রণয়ন একটি ডিলিব্যারেটিভ প্রসেস বা আলোচনা, পরীক্ষা, সংশোধন ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার…
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।…
কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক…
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান…
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।…
This website uses cookies.