ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে করার সম্ভাব্য সময়সূচি জানানো হলেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার কিংবা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না। এমনকি ইসি’র সঙ্গে এ নিয়ে সরকারের কোনো চিঠি চালাচালিও হয়নি।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে সোমবার যে বিস্তারিত ব্রিফিং দেয়া হয়েছে, সেখানে বারবার বলা হয়েছে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ১৭ই সেপ্টেম্বর একটি সিদ্ধান্তে আসা হবে। অন্যদিকে, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইউপি নির্বাচনের যে সময়সূচি সামনে এসেছে, সেটি কমিশনের প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা থেকে তৈরি করা একটি প্রাথমিক সময়সূচি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পরই নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত হবে। সরকার ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করেই ইসি’র এই প্রাথমিক রোডম্যাপ প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের এ বিষয়ে কোনো চিঠি চালাচালি হয়নি। অন্য কোনো মাধ্যমেও আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা, প্রস্তুতি সভা এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা করা হয়। সেখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইউপি নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে সরকার কিছু জানে না।
নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী চলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিকভাবে ইসি’র দুটি দায়িত্ব, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন করা। স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন হবে। এ আইনে এমন কিছু নেই, যেখানে বলা আছে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে করতে পারে। এটি সমন্বয়ের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য সূচি দিয়েছে, এটা হয়তো মিডিয়াতে একটু অন্যভাবে এসেছে। সম্ভাব্য তারিখ ফাইনাল কিছু না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৭ই সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা থাকবেন। সে সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ভবিষ্যতে নির্বাচনের তফসিল সাজাবে ইসি। সে পর্যন্ত তো আমরা অপেক্ষা করি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই ইসি’র অবস্থান পরিষ্কার করেন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে, কী পদ্ধতিতে এবং কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে গত দুইদিন প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একটি প্রাথমিক সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে এবং আরও দুটি ধাপ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। ১৭ই সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে ইসি সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, উনি যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাবো না। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ১৭ই সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামতের ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।
ইসি সচিব বলেন, আমরা ১৭ই সেপ্টেম্বর অংশীজন যারা আছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এবং যারা নির্বাচন ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাদের নিয়ে আমরা একটা মিটিং করবো। এই মিটিংয়ের পরে কমিশন যে ইনপুট পাবে সেই ইনপুটের ভিত্তিতে কমিশন তফসিল চূড়ান্ত করবেন। ওইদিন আবারো আপনাদের এ বিষয়ে আপডেট তথ্য জানানো হবে। মিটিংয়ে ইনপুট পাওয়ার পরেই কমিশনই এ বিষয়ে ব্রিফ করবে। কমিশন বিব্রত কিনা এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে রাজি নন ইসি সচিব।
এর আগে গত সোমবার নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সেখানে সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাড়ে চার হাজারের মতো ইউনিয়ন পরিষদে সাত ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটের মধ্যদিয়ে এবারের ইউপি নির্বাচন শুরু হবে। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে চায় কমিশন। প্রথম ধাপের নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ১২ই নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ই ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০শে ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ই জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২শে এপ্রিল ও সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭শে মে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার…
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।…
কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক…
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান…
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।…
This website uses cookies.