Header Premium (728×90)

বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণের লড়াই

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ০০

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কেবল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন আনেনি, বরং গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের সমাজের শিক্ষিত ও সচেতন মহলে যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা ছিল, তা আজ সামনে নিয়ে এসেছে। নতুন প্রজন্মের একটি অংশ সেই দ্বিধার দেয়াল ভেঙে প্রশ্ন তুলছে—আমরা কারা এবং আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় কী? আমাদের ইতিহাস, বিশ্বাস, সংগীত, সাহিত্য ও জীবনবোধের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলো এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

একটি রাষ্ট্র কেবল সংবিধান, নির্বাচন কিংবা অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; একটি জাতি গড়ে ওঠে তার ইতিহাস, স্মৃতি, মূল্যবোধ এবং নিজের গল্প নিজে বলার ক্ষমতার ওপর। যে জাতি নিজের গল্প বলতে পারে না, সে অন্যের বলা গল্পের ভেতর নিজেকে খুঁজতে বাধ্য হয়। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি এই বিষয়টি সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছিলেন। তার ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার একটি বিকল্প সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তার সব বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত না হতে পারেন, কিন্তু এই প্রশ্নটি উপেক্ষা করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে কি দেশের সংস্কৃতির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তৈরি করা সম্ভব?

এখন সময় এসেছে এই প্রশ্নগুলোকে কেবল প্রতিবাদ বা পাল্টা বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার। কোনো সমাজে যদি বাইরের সংস্কৃতি অস্বাভাবিকভাবে প্রাধান্য পায়, তবে তার পেছনে সামাজিক ও ঐতিহাসিক কারণ থাকে। তাই কেবল অভিযোগ নয়, বরং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সাংস্কৃতিক জগতে কোনো শূন্যস্থান থাকে না। আমরা যদি নিজেদের ইতিহাস ও মূল্যবোধ থেকে মানসম্মত সিনেমা, গান, নাটক বা অ্যানিমেশন তৈরি করে নতুন প্রজন্মকে না দিই, তবে তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্য কোথাও তা খুঁজে নেবে।

আমাদের সন্তানদের জন্য বিশ্বমানের অ্যানিমেশন, মনীষীদের নিয়ে আকর্ষণীয় গল্প এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের অভাব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে শেখার অনেক কিছু থাকলেও, তাদের নিজের সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের অভিভাবক বানিয়ে ফেলা সঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে, শুদ্ধ উচ্চারণ বা সাহিত্যিক স্বীকৃতির জন্য কলকাতার দিকে তাকাতে হয়—এই ধারণাটিই সমস্যার মূলে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের ভাষার মিল থাকলেও ইতিহাসবোধ, ধর্মীয়-সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং জীবনদর্শন এক হতে হবে এমন কোনো কারণ নেই। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর শিল্প ও সংস্কৃতিতে তার নিজস্ব আনন্দ-বেদনা ও জীবনবোধের প্রতিফলন থাকা স্বাভাবিক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটি গুরু-শিষ্যের নয়, বরং সমমর্যাদার দুই প্রতিবেশীর হওয়া উচিত। বাংলাদেশের নিজস্ব সংকট, আনন্দ ও জীবনবোধের প্রতিফলনই গড়ে তুলবে আমাদের পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক পরিচয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…

3 minutes ago

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও…

7 minutes ago

জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে…

17 minutes ago

না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন ৮০ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

22 minutes ago

বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট। ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’…

29 minutes ago

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের…

48 minutes ago

This website uses cookies.