Header Premium (728×90)

ভরা মৌসুমেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় কমেছে ইলিশের বিচরণ

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও নদী দুটিতে রূপালি এই মাছের বিচরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ স্থানীয় ঘাটগুলোতে ইলিশের আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় একই রকম রয়েছে। নদীতে বড় আকারের ইলিশ বেশি পাওয়া গেলেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।

বর্তমানে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে আহরিত ইলিশের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম থেকেও মাছ আসছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে এই ঘাটে। তবে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় নদীতে ইলিশের উপস্থিতি বেশ কমে গেছে।

সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার জেলে জামাল গাজী জানান, গত পাঁচ থেকে সাত বছরের তুলনায় পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের পরিমাণ কমেছে। এবার ছোট ইলিশের চেয়ে বড় সাইজের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া জেলেপাড়ার প্রবীণ জেলে জামাল মিয়াজী বলেন, প্রজনন ও জাটকা মৌসুমে কিছু অসাধু জেলে ইলিশ ধরায় মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এছাড়া নিষিদ্ধ কারেন্ট ও ফাঁদ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়াও ইলিশ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

হরিণা ফেরিঘাট এলাকার পাইকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বর্তমানে বরফ ছাড়া এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতি কেজির দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। আর ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

তাজা ইলিশ কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা চাঁদপুরের বিভিন্ন ঘাটে ভিড় করছেন। কচুয়া থেকে আসা ক্রেতা মোহসিন হোসাইন জানান, তিনি ১০ হাজার টাকার ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশ কিনেছেন, তবে বড় ইলিশের দাম বাজেটের বাইরে। হাজীগঞ্জ থেকে আসা মাছুম তালুকদার বলেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। হরিণা ঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পদ্মা-মেঘনার তাজা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় জেলেরা ঘাটে আনা মাত্রই তা বিক্রি হয়ে যায়।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, ইলিশের আমদানি গত বছরের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দেশজুড়ে চাঁদপুরের ইলিশের ব্যাপক ব্র্যান্ডিং থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩৫ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ইলিশের আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। জাটকা রক্ষা ও মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে মৎস্য বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে উৎপাদনের প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।

ইলিশের বিচরণ কমে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, মেঘনার মোহনা ও নদীর তলদেশে পলি জমে বড় বড় ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক মাইগ্রেশন রুট বা চলাচল পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গভীর পানির মাছ হওয়ায় ইলিশ অগভীর পথ এড়িয়ে চলে। এছাড়া নদীর তলদেশে পানি দূষণের কারণে ইলিশের খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে এবং জেলেরা কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

Recent Posts

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…

10 minutes ago

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

45 minutes ago

নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…

1 hour ago

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…

1 hour ago

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…

1 hour ago

সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…

1 hour ago

This website uses cookies.