সমকালীন চীনা সাহিত্যের অন্যতম নিরীক্ষাধর্মী ও স্বতন্ত্র লেখক ক্যান শুয়ে। তাঁর আসল নাম দেং শিয়াওহুয়া। ১৯৫৩ সালে চীনের হুনান প্রদেশের ছাংশায় জন্ম নেওয়া এই লেখকের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বেশি দূর না এগোলেও, নিজের চেষ্টায় সাহিত্য ও দর্শন পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর লেখায় কাফকা, বোর্হেস, দান্তে ও শেক্সপিয়ারের মতো মহান লেখকদের স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি ব্ল্যাকস্টোন পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ২৫৫ পৃষ্ঠার নতুন বই ‘মাদার রিভার’, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮.১৪ ডলার।
এই বইটিতে মোট ১৩টি গল্প স্থান পেয়েছে। ক্যান শুয়ের গল্পে প্রবেশ করা মানেই পাঠক যেন এক অপরিচিত নিয়মের জগতে পা রাখেন। এখানে সময় সরল রেখায় চলে না, চেনা পরিবেশ মুহূর্তেই অচেনা হয়ে ওঠে এবং একটি কান, সাপ বা শামুকের মতো তুচ্ছ বিষয়ও মানুষের জীবনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য এক বাস্তবতাকে তিনি গল্পে গল্পে তুলে ধরেছেন।
বইটির নামগল্প ‘মাদার রিভার’ মূলত এক তরুণের বেড়ে ওঠার গল্প। জেলে হওয়ার স্বপ্ন দেখা সেই তরুণটি পরে গোলাকার মানচিত্র তৈরির কাজ শেখে। সময়ের সাথে সাথে নদী, মাছ ও মানুষ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায় এবং সে উপলব্ধি করে যে, কত মাছ ধরা হলো তা বড় কথা নয়, বরং তার নিজের মানুষ হয়ে ওঠাটাই আসল। অন্যদিকে ‘দ্য গডেস অব শিসুয়াংবান্না’ গল্পে ঝাও নামের এক ব্যক্তি বারবার অদ্ভুত কিছু কান দেখতে পায়। পোকা, সাপ, শামুক ও গোলাপের মতো নানা অনুষঙ্গ তার চারপাশে জীবন্ত হয়ে ওঠে। নতুন বহুতল ভবনে গিয়েও সে তার পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পায় না। একপর্যায়ে প্রশ্ন জাগে—ঝাও কি আসলেই এদের দেখছে, নাকি এই প্রাণীরাই তাকে পর্যবেক্ষণ করছে?
ক্যান শুয়ের লেখার মূল শক্তি হলো তিনি পাঠককে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ দেন না, বরং একটি পরিবর্তনশীল দৃশ্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেন। তাঁর গল্পে স্বপ্ন, স্মৃতি, অবচেতন মন ও বাস্তবতার সীমানা মুছে যায়। গল্পে প্রচ্ছন্ন হাস্যরস থাকলেও তা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি রহস্যময় করে তোলে। তাঁর গল্প শেষ হলেও তার রেশ পাঠকের মনে থেকে যায় এবং তা নিজের চেনা পৃথিবীর ভেতরেই নতুন এক ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।
ক্যান শুয়ের বইয়ের এক ডজনেরও বেশি ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রেস, হেনরি হল্ট, নিউ ডিরেকশন্স ও ইয়েল ইউনিভার্সিটি প্রেসের মতো নামী প্রকাশনা সংস্থা থেকে। রবার্ট কুভার, জন ডার্নিয়েল ও সুসান সন্টাগের মতো বিশ্বখ্যাত লেখকেরা তাঁর সাহিত্যের প্রশংসা করেছেন। ২০১৫ সালে ‘দ্য লাস্ট লাভার’ বইটির জন্য তিনি ‘বেস্ট ট্রান্সলেটেড বুক অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এছাড়া তাঁর ‘লাভ ইন দ্য নিউ মিলেনিয়াম’ এবং ‘আই লিভ ইন দ্য স্লামস’ বই দুটি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ফাইভ স্পাইস স্ট্রিট’, ‘ভার্টিক্যাল মোশন’ ও ‘ফ্রন্টিয়ার’।
পরিচিতি ক্যান শুয়ে (Can Xue) সমকালীন চীনা সাহিত্যের অন্যতম স্বতন্ত্র ও নিরীক্ষাধর্মী লেখক। তার আসল নাম দেং শিয়াওহুয়া। ১৯৫৩ সালে চীনের হুনান প্রদেশের ছাংশায় তার জন্ম। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি। পরে তিনি নিজে নিজে সাহিত্য ও দর্শন পড়েন। কাফকা, বোর্হেস, দান্তে ও শেক্সপিয়ারের লেখার প্রভাব তার সাহিত্যে দেখা যায়।
অভিনয়ের ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে দীপা খন্দকার নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। বর্তমানে বয়স ও জীবনের…
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও…
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ককে হকারমুক্ত…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে উঠলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা…
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের…
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উত্তর-পশ্চিম জার্মানির একটি বন্দীশিবিরে একাধিক হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে ১০৫ বছর বয়সী এক…
This website uses cookies.