Header Premium (728×90)

জয় ও পলকের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের হাতেই এখনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার আইটি সেবা

গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (08 September 2026) তারিখে প্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আইটি সেবা এখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও বিতর্কিত এই প্রতিষ্ঠানের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ও তথ্যপাচারের আশঙ্কা করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

গোপন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জয় ও পলকের অংশীদারত্ব এবং ঘনিষ্ঠতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ডিভাইন আইটি লিমিটেড, ডিভাইন ইনফরমেটিকস লিমিটেড, সিসটেক ডিজিটাল ও ডিভাইন মাইমানি। এর মধ্যে ডিভাইন আইটি ২০১৫ সাল থেকে তিতাস গ্যাসের বিলিং, পেমেন্ট, কালেকশন, নেটওয়ার্ক ও ডেটা সেন্টার পরিচালনা করছে। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্পূর্ণ ইআরপি সেবা, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানির (বিডিসিসিএল) সাইবার সিকিউরিটি ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা সিএ মনিটরিং সিস্টেম (সিএএমএস) পরিচালনা করছে তারা। এনবিআরের প্রিজম ভ্যাট সফটওয়্যার, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইএসএস ও এমআইএস সেবা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইটি সিকিউরিটি এবং সেনাবাহিনীর বিএমটিএফের ইআরপি সেবাও দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। তারা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটিরও অফিশিয়াল পার্টনার।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিভাইন আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান (রাসেল) বেসিসের মাধ্যমে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তারা যৌথভাবে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং রাসেল ছিলেন পলকের রাজনৈতিক কার্যক্রমের অন্যতম অর্থদাতা। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগের সুবিধাভোগী হিসেবে রাসেল জয়ের প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে ‘আমরা প্রবাসী’সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়া তিতাস গ্যাসের সম্পূর্ণ ইআরপি ও ডেটা সেন্টার পরিচালনার কাজও তিনি পেয়েছিলেন। রাসেল ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জয় ও পলকের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করা এবং উত্তরায় আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের জন্য একটি ফ্রি বার পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী কার্যকলাপে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মূলত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক উত্থান ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিন্ডিকেট ও প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছে ডিভাইন আইটি। সরকারের সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত নয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে বিডিসিসিএল, সিএএমএস, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা তিতাস গ্যাসের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ থাকা দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের সাইবার বিপর্যয় ঘটিয়ে বা তথ্যপাচার করে দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবে। অন্যদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বিএমটিএফ তাদের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা নিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রতারণামূলকভাবে তাদের ওয়েবসাইটে বিএমটিএফের লোগো ও নাম ব্যবহার করেছিল, যা পরে সরিয়ে নিয়েছে। তবে এনবিআরের একজন সদস্য জানান, ডিভাইন আইটি তাদের তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যাট অটোমেশনের কাজে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক কিছু পাওয়া যায়নি।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিভাইন আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল আমার দেশকে বলেন, জয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগটি সম্পূর্ণ বিরক্তিকর এবং এ ধরনের কোনো মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। পলকের সঙ্গে আইসিটি মন্ত্রী হিসেবে কয়েকবার দেখা হতে পারে এবং ছবি থাকতে পারে, তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি কখনো তার কাছে যাননি। তিনি দাবি করেন, প্রভাব খাটিয়ে নয় বরং সব নিয়ম মেনেই তিনি কাজ পেয়েছেন এবং তাদের ২১ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানের অনেক গ্রাহক রয়েছে। ওয়েবসাইট থেকে বিএমটিএফের নাম ও লোগো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়েবসাইট তিনি নিজে দেখেন না এবং এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম…

8 minutes ago

হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন…

20 minutes ago

ঢাকা ও উপকণ্ঠের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আধুনিকায়ন করতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন…

22 minutes ago

গাজীপুরে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর…

39 minutes ago

জাতিসংঘে এরদোয়ানের ভাষণের সময় মোবাইল ফোনে মগ্ন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ভাষণের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার…

46 minutes ago

মাগুরায় বেশি দামে সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রি, ১ লাখ টাকা জরিমানা

মাগুরার শ্রীপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক…

49 minutes ago

This website uses cookies.