Header Premium (728×90)

ড্রোন হামলার ঝুঁকি: ট্রেনে চেপে কিয়েভ গেলেন ট্রাম্পের দুই দূত

আকাশপথে রাশিয়ার ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় বিমানে নয়, বরং ট্রেনে চড়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতেরা। কিয়েভে পৌঁছানো ট্রাম্পের এই দুই দূত হলেন স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অথচ এই সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্রেমলিনে তাঁরা আলোচনা টেবিলে বসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে, যাঁর নির্দেশেই ইউক্রেনে অনবরত ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। অনলাইন বিবিসির বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিয়েভে অনুষ্ঠিত এই শান্তি আলোচনা ছিল নানা প্রতীকী তাৎপর্যে ভরপুর।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ডনাল্ড ট্রাম্পের কোনো প্রতিনিধি দল দেশটির মাটিতে পা রাখল। কিয়েভের ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালে ট্রাম্পের এই দুই দূতকে স্বাগত জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই প্রাচীন স্থাপনাটি গত শুক্রবার রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তর থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে অবস্থিত। এর মাধ্যমে জেলেনস্কি মার্কিন প্রতিনিধিদের ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তা সহজেই অনুমেয়।

আলোচনাকালে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা যুদ্ধের মাঠের একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, গত আগস্ট মাসে তাঁরা রাশিয়ার কাছ থেকে যতটা ভূখণ্ড হারিয়েছেন, তার চেয়েও বেশি এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার প্রায় ৪২ হাজার সেনা হতাহত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এর আগে পুতিন মার্কিন দূতদের জানিয়েছিলেন, এই সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে। পুতিনের দীর্ঘদিনের এই দাবির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনকে তাদের ভূখণ্ডের একটি অংশ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া, ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর আকার ছোট করা। তবে আলোচনার পর জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনের জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীসহ সুনির্দিষ্ট ও জোরালো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

পূর্বাঞ্চলের দনবাস অঞ্চল নিয়ে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ইউক্রেন প্রস্তুত কি না—এমন কোনো ইঙ্গিত জেলেনস্কি দেননি। তিনি বিষয়টিকে সংক্ষেপে একটি 'কঠিন ইস্যু' হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের দূত উইটকফ দাবি করেছেন যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় উপাদান সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করতে উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে আপস করতে হবে। যদিও এই মুহূর্তে কোনো পক্ষই তেমন আপস করার জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না।

এমতাবস্থায় কিয়েভের সাধারণ প্রত্যাশা হলো, যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং ইউক্রেনকে সামনে একটি অত্যন্ত কঠিন শীতকাল মোকাবিলা করতে হবে। কিছু কূটনীতিক মনে করছেন, আগামী বসন্তে হয়তো একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে, তবে অনেকেই এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। এদিকে, ট্রাম্পের দূতদের এই সফরের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি। কারণ দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে এই সফরের সময় বিমান হামলায় যে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছিল, তা কিয়েভের বাসিন্দাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে…

1 minute ago

এনসিএল সামনে রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন

জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) শুরুর আগে জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক টার্ফে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন…

3 minutes ago

জাতিসংঘের অধিবেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশের…

3 minutes ago

শিশুর স্থুলতা রোধে পরিবারের ৬টি কার্যকর পরামর্শ

শিশুর অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলতা রোধে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং পুরো পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন…

9 minutes ago

আগামী বছরের জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে এই…

13 minutes ago

কুমিল্লার পাড়া-মহল্লায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, টিকটকের আড়ালে খুন ও অস্ত্রের মহড়া

কুমিল্লায় টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ভয়ংকর সব কিশোর গ্যাং। সম্প্রতি স্কুলছাত্র…

17 minutes ago

This website uses cookies.