প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ৪৪। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন শাকিল আহমেদ। ট্রাইব্যুনালে শাকিল বলেন, ২০২৪ সালে আমি শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম। রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হলে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ১৮ জুলাই মিরপুর ১০-এ প্রথম আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ১৯ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টির গলিতে গিয়ে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনি। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দ্বাদশ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার লোমহর্ষক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে এ জুলাইযোদ্ধা বলেন, ২ আগস্ট আমি আবার আন্দোলনে অংশ নিই। ৩ আগস্ট মিরপুর ১০-এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ওইদিন আমরা শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিয়েছিলাম। ৪ আগস্ট আমি আবার আন্দোলনে যাওয়ার জন্য আম্মুর অনুমতি চাই। আম্মু আমাকে নিষেধ করলে আমি তাকে বলি ঢাকায় হত্যা করা হচ্ছে না, চট্টগ্রামে হচ্ছে। এ কথা বলে আমি আন্দোলনে যাই এবং বেলা ৩টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হই। একটি গুলি আমার বাম নিতম্বের ভেতর দিয়ে ঢুকে ডান রানের গোড়া দিয়ে বেরিয়ে যায়, যার ফলে পায়ুপথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাকিল জবানবন্দিতে জানান, ৪ আগস্ট পুনরায় আন্দোলনে যোগ দিলে হকারদের একটি খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সেই মুহূর্তে নিজের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে তিনি পরিবারের কাছে ফোন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং কালেমা পড়তে পড়তে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জবানবন্দিতে এ জুলাইযোদ্ধা আরো বলেন, পরদিন ৫ আগস্ট ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজ খুলে ডাক্তাররা বুঝতে পারেন, ওখানে আমার অপারেশন করা সম্ভব নয়। তারা আমাকে হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তখন খবর পাই, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। অনেক লোকজন রাস্তায় নেমে গেছে। পরে আমাকে কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে ৮ আগস্ট আমার অপারেশন হয়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাত-আটজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিল, তবে পরিবারের সদস্য ও নার্সদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। পরবর্তীতে পিজি হাসপাতালে তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়, যেখানে ছয় মাসে নয়বার অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও তার পায়ুপথ স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে তাকে বিশেষ নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে পা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে শাকিল আরও বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের কুপরামর্শেই হাসিনা সরকার গুলি চালানোর সাহস পেয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। এই দুজনকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে তিনি তাদের বিচার ও নিজের শারীরিক ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কায় বুধবার আন্তর্জাতিক…
চীনের লাইভস্ট্রিম শপিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সুপারস্টার লি…
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ…
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই সফরে…
পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ প্রথমবারের মতো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তিনি আফগানিস্তানের…
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…
This website uses cookies.