নারায়ণগঞ্জে জুলাই বিপ্লবে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ রাসেল রানার বাবা মজিবর রহমান। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ উপস্থিত হয়ে তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মজিবর রহমান জানান, তাঁর বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। তাঁর ছেলে রাসেল রানা নারায়ণগঞ্জে তাঁর ফুফাতো ভাই বুলবুলের সঙ্গে ইব্রাহিম কারখানায় কাজ করত। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে রাসেল ফোন করে পরিবারের খোঁজখবর নেয়। সে সময় সে বলেছিল, ‘আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া কর।’ এই কথা বলেই সে আন্দোলনে যোগ দিতে যায়।
রাসেলের বাবা আরও জানান, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাসেলের এক বন্ধুর ফোন থেকে তাঁর নম্বরে একটি কল আসে। তিনি ফোন রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হয় তিনি রাসেলের বাবা কি না। ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পর জানানো হয়, রাসেল নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের সেখানে আসার অনুরোধ করা হয়।
তবে সে সময় নওগাঁ জেলায় কারফিউ জারি থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় আসতে পারেননি মজিবর রহমান। রাসেল নারায়ণগঞ্জে থাকলেও তাঁর পরিবার নওগাঁয় বসবাস করত। রাসেল যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করত, তার মালিক বুলবুল ছিলেন তাঁদের এলাকার আত্মীয়। নিজে আসতে না পেরে মজিবর রহমান তাঁর ফুফাতো ভাই বুলবুল ও চাচাতো ভাই রফিকুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
পরবর্তীতে ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বুলবুল ফোন করে জানান যে রাসেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। কোনো উপায় না পেয়ে মজিবর রহমান ছেলের লাশ নওগাঁয় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। এরপর বুলবুল রাসেলের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শহীদ রাসেলের বাবা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন পত্রিকা, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু, রিয়াদ ও ডিস বাবুলসহ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র হাতে চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে বিবি রোড ও নয়ামাটি এলাকার দিকে যান। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজও অনেকে ধারণ করেছেন। আসামিদের গুলিতেই তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তৎকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৩৬আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৫৭
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম…
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন…
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আধুনিকায়ন করতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন…
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ভাষণের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার…
মাগুরার শ্রীপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক…
This website uses cookies.