Header Premium (728×90)

ভ্যাটিকানের রাস্তায় ‘অস্তিত্বহীন রাষ্ট্রের’ দূতাবাস নিয়ে রহস্য

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আধ্যাত্মিকতার প্রাণকেন্দ্র ভ্যাটিকান সিটির রাস্তায় এমন কিছু ঘটনার অবতারণা হয়, যা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। সম্প্রতি সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের অদূরে ক্রোয়েশিয়া থেকে আসা এক মা ও তাঁর সন্তানের অবস্থান আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক মহলের নজর কেড়েছে। তাঁরা প্রকাশ্যে দাবি করছেন যে, তাঁরা রাস্তায় বসে একটি 'অস্তিত্বহীন' বা প্রস্তাবিত নতুন দেশের 'দূতাবাস' পরিচালনা করছেন। এই অদ্ভুত দাবির পেছনের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় আট বছর ধরে তাঁরা এই কাল্পনিক রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। এমনকি তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের কাছেও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

তাদের এই অস্বাভাবিক দাবির মূলে রয়েছে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যুগোস্লাভিয়ার রক্তক্ষয়ী ভাঙন এবং বলকান যুদ্ধের ভয়াবহ ট্রমা। যুদ্ধের ফলে নিজ ভূমি ও জাতীয় পরিচয় হারিয়ে ফেলা লাখ লাখ মানুষের মতোই তাঁরা রাষ্ট্রহীনতার শিকার হয়েছেন। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে একে এক ধরনের 'কোপিং মেকানিজম' বা মানসিক সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পরিচয় না পেয়ে, তাঁরা নিজেদের মনের ভেতর একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কল্পনা করে নিয়েছেন।

তাদের এই দাবি আধুনিক ভূ-রাজনীতির 'মাইক্রোনেশন' বা ক্ষুদ্র-রাষ্ট্র তত্ত্বের সাথে অনেকটা মিলে যায়। ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যবর্তী বিতর্কিত ভূখণ্ডে 'ফ্রি রিপাবলিক অব ভার্ডিস' বা 'লিবারল্যান্ড'-এর মতো বেশ কিছু অঘোষিত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও এসব রাষ্ট্র নিজস্ব পতাকা ও মুদ্রা ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন স্থানে দূতাবাস খোলার দাবি জানায়। ভ্যাটিকানের রাস্তায় থাকা এই মা-ছেলে সম্ভবত সেই ধাঁচের কোনো কাল্পনিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ইউরোপের অন্যান্য শহর বাদ দিয়ে তাঁরা কেন ভ্যাটিকানকে বেছে নিলেন, তার উত্তর পোপ ফ্রান্সিসের মানবিক কার্যক্রমে নিহিত। ভ্যাটিকানে গৃহহীনদের জন্য চিকিৎসা, আশ্রয় ও মৌলিক সেবার যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সহনশীলতাই তাঁদের এখানে নিজেদের 'দূতাবাস' প্রতিষ্ঠার সাহস দিয়েছে। এমনকি শীতের রাতে এক গৃহহীন নারী রাস্তায় সন্তান প্রসব করলে, পোপ তাঁকে ভ্যাটিকানের নিজস্ব বাসস্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়া ঐতিহাসিক যোগসূত্রও রয়েছে; ১৯৯২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগে ভ্যাটিকানই প্রথম ক্রোয়েশিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আজ সেই ভ্যাটিকানের মাটিতেই একজন ক্রোয়েশীয় নাগরিক তাঁর 'অস্তিত্বহীন রাষ্ট্রের' স্বীকৃতি খুঁজছেন, যা ইতিহাসের এক পরাবাস্তব পুনরাবৃত্তি। আইনগত দিক থেকে এই 'দূতাবাস'-এর কোনো ভিত্তি না থাকলেও, রাষ্ট্রহীনতার বিরুদ্ধে এটি তাঁদের এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ ও আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

কালীগঞ্জে দুই রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তাহীনতায় হাজারো মানুষ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুলবাড়ীতে দুটি লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান বা কার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা। এতে স্থানীয় হাজারো…

6 minutes ago

আটঘরিয়ায় ১৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ১৭টি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ…

25 minutes ago

বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না: আমানউল্লাহ আমান

কেরানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের কোনো স্থান…

41 minutes ago

সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি ও পাচারের প্রতিবাদে উত্তাল দেশ

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও মজুতদারির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন…

56 minutes ago

বেতাগীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা

বরগুনার বেতাগীতে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা…

1 hour ago

বিমান বাংলাদেশ: ঢাকা-টরন্টোর অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকা-নিউইয়র্কের সম্ভাবনা

বিমান বাংলাদেশের ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটের যাত্রীসেবা ও অব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে নতুন ফ্লাইট চালুর…

1 hour ago

This website uses cookies.