Header Premium (728×90)

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জনকে হত্যার কারণ ‘মাদক সেবনে বাধা’

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে ওই এলাকার দুই মাদকসেবী তাদের একে একে হত্যা করে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। সম্পর্কে তারা মামাতো ভাই। শনিবার ভোর রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং রোববার নিজ কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিবেশী দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে এসে মাদক সেবন করছিল মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেন এবং তাদের মাদক সেবনে বাধা দেন। এর জেরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে একে একে হত্যা করে।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ মাছুয়াপাড়ার ওই দোতলা বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে প্রথম তলার দ্বিতীয় সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫), দ্বিতীয় তলার খাটের নিচে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) এবং চিলেকোঠা থেকে গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ পাওয়া যায়। প্রতিটি লাশের গলায় রশি, গামছা অথবা গেঞ্জি পেঁচানো ছিল এবং সেগুলো পচন ধরা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানান, ৩ থেকে ৪ দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং ঘরের আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার পাশাপাশি আলমারির ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাকাতি মনে হলেও অধিকতর তদন্তের পর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

এলাকাবাসী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে গণপতি চক্রবর্তী মাছুয়াপাড়ায় এই বাড়িটি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর তিনি রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। তবে প্রতিবেশীদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল খুবই কম এবং কারও সাথে কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক গণপতি অবসরের মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন বলে তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে এবং ৩ দিন ধরে মোবাইলে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় গণপতির শ্যালিকা সেখানে আসেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের জানান এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই এবং সিআইডি যৌথভাবে কাজ করছে। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি: এক দিনে ৮০ ওভারের লড়াই

ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি আসছে। ছেলে ও মেয়েদের সমন্বয়ে এক দিনে ৮০ ওভারের এই…

1 hour ago

শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল বিস্ফোরণে ব্যবসায়ীর হাতের আঙুল ঝলসে গেল

গাজীপুরের শ্রীপুরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি হলুদ রঙের বোতল কুড়িয়ে নেওয়ার পর বিস্ফোরণে নূর…

2 hours ago

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে…

2 hours ago

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে…

2 hours ago

কর্মসূচি বন্ধে পুলিশি নোটিশ, অভিজিৎ দিপকের সাফ কথা ‘ফাঁসি দিন’

দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে অভিজিৎ দিপকের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ…

2 hours ago

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমবে, আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে…

3 hours ago

This website uses cookies.