Header Premium (728×90)

তারেক রহমানের ছয় মাস: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ

সময়ের পরিক্রমায় ইতিহাস গড়ে ওঠে—কখনো তা গৌরবের, আবার কখনো লজ্জার। দীর্ঘ ১৬ বছর স্বৈরাচারী শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই আন্দোলনে ১৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, যার প্রধান হন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চলতি মাসে এই সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই জনগণের পালস বুঝে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তার অন্যতম প্রশংসিত উদ্যোগ হলো সাধারণ জীবনযাপন, যেখানে তিনি বিগত সরকারের মতো প্রোটোকল বা রাস্তা বন্ধ করার মতো জনভোগান্তি সৃষ্টি না করে সাধারণের মতো চলাফেরা করছেন। এছাড়া, সকাল ৯টায় সচিবালয়ে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব গ্রহণের ১৯ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিয়েছেন। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষকদের ঋণ মওকুফের ধারাবাহিকতায় তিনি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ড প্রবর্তন করেছেন। এছাড়া নিজস্ব বেতন থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থদান এবং জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ রেখে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

তবে সরকারের এই অগ্রযাত্রায় মাঠ পর্যায়ে কিছু বাধা ও বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জেলা-উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। রাজশাহীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রকৌশলীর ওপর যুবদল নেতার হামলা এবং নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতের দোকান নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের সংঘর্ষের মতো ঘটনাগুলো জনমনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা হাসিনা সরকারের সময়ের অপকর্মের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা সরকারের সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বিরোধী দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন, যা প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু তার এই ‘ধীরে চলো নীতি’ বাস্তবায়নের পথে স্থানীয় পর্যায়ের এসব অরাজকতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে এসব বিষয়ে কঠোর হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে বিতর্কিত নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সামরিক রদবদল ও প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইরান

প্রায় ছয় মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশের শীর্ষ…

3 minutes ago

অরুণাচল সীমান্তে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ নিয়ে নতুন বিতর্ক

অরুণাচলের সীমান্তে চীনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় বাহিনীর টহল পয়েন্টে বাধা প্রদানের ঘটনায় ভারতের…

4 minutes ago

দারাজের মাধ্যমে মাদক বিক্রি: বাড্ডায় কেমিস্ট গ্রেপ্তার, আসামি এমডিও

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের মাধ্যমে ‘সিবিডি তেল’ বা ‘অ্যারোমেটিক অয়েল’ নামে উচ্চ মাত্রার মাদক টিএইচসি বিক্রির…

5 minutes ago

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ নিয়ে ভাবছেন না শাহরিয়ার নাফীস

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের পর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ বিসিবি'র ক্রিকেট অপারেশন্স…

18 minutes ago

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যাত্রা শুরু

শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা চর্চায় উৎসাহিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল 'বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি' (বাইবিসাস)।

22 minutes ago

শিক্ষক শুধু চাকরিজীবী নন, মানুষ গড়ার কারিগরও

একটি বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো একজন যোগ্য, সৎ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। শায়েস্তাগঞ্জ হাই…

30 minutes ago

This website uses cookies.