Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

ইরান যেভাবে আধুনিক যুদ্ধরীতির ধরন বদলে দিল

যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে, তখন তাদের প্রত্যাশা ছিল খুব দ্রুতই দেশটির সরকারকে পুরোপুরি পরাস্ত ও ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। পরবর্তী ৩৭ দিনে তারা আরও ১২ হাজার লক্ষ্যবস্তু উড়িয়ে দেয়, যা ইরানের সামরিক অবকাঠামোর সিংহভাগই ধ্বংস করে ফেলে। এই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান। কিন্তু ছয় মাসের বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ইরানি শাসনব্যবস্থা কেবল টিকেই থাকেনি, বরং এটি সম্ভবত আগের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। নিহত শীর্ষ নেতাদের শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করে স্থলাভিষিক্ত দল গঠন করে এবং ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং এক নতুন রাজনৈতিক দর-কষাকষির শক্তি অর্জন করে।

ইরান কেন এত অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো সামরিক পারফরম্যান্স দেখাল, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্ভাব্য হামলার জন্য দেশটি বহু আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল; তাই শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পরও তারা নিজেদের সরকার পুনর্গঠনে সক্ষম ছিল। দ্বিতীয়ত, মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও নিজেদের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বজায় রাখতে পেরেছিল তারা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বহু আগে থেকেই সস্তা অথচ নিখুঁত ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের এক বিশাল অস্ত্রাগার তৈরি করে রেখেছিল। এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক হামলাকে ঠেকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা পালন করেছে।

এ প্রক্রিয়ায় ইরান আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে আরও ব্যাপক একটি সত্য সামনে নিয়ে এসেছে। কম খরচে বিপুল পরিমাণ নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার—যাকে আমি ‘প্রিসাইজ মাস’ বলছি—সেই যুগ এখন পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। অল্প সংখ্যার দামি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ‘অসাধারণ’ অস্ত্র দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে স্তম্ভিত করে দেওয়া বা এককভাবে যুদ্ধে জিতে যাওয়ার দিন মার্কিন সামরিক বাহিনী বা অন্য যেকোনো বাহিনীর জন্য আর অবশিষ্ট নেই। বড় বা শক্তিশালী দেশকে এখন অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দেশগুলোও শক্তিশালী আক্রমণাত্মক হামলার বর্ষণে মোকাবিলা করতে পারে।

‘প্রিসাইজ মাস’ হলো তেমনই এক নতুন সক্ষমতা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঐতিহ্যবাহী সামরিক বাহিনীগুলো মূলত অল্পসংখ্যক কিন্তু অত্যন্ত প্রযুক্তিভিত্তিক, ব্যয়বহুল ও তৈরি করা কঠিন—এমন অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম কেন্দ্র করে গঠিত। তাদের বিভিন্ন ইউনিট এই দামি ব্যবস্থাগুলোকে কেন্দ্র করেই প্রশিক্ষণ নেয় ও পরিকল্পনা সাজায়। ফলে তারা চাইলেই খুব সহজে ‘প্রিসাইজ মাস’ কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে না। বর্তমানে প্রতিরক্ষার চেয়ে আক্রমণ অনেক বেশি সস্তা ও সহজ: ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো কার্যকর প্রতিরোধক বা ইন্টারসেপ্টরের দাম এখনো কমেনি, অন্যদিকে আক্রমণকারী ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের দাম খুবই কম। ফলে ‘প্রিসাইজ মাস’ আক্রমণ ঠেকানো চরম ব্যয়বহুল।

অবশ্য ইরানের এই যুদ্ধ এটাও দেখিয়েছে যে উন্নত প্রযুক্তি এখনো সামরিক ক্ষেত্রে অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের জটিল ও দামি অস্ত্রগুলো ঠেকানো এখনো বেশ কঠিন এবং সেগুলো একক আঘাতেই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে অনেক বেশি সক্ষম। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ যা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করেছিল, বিশ্ব এখন ইরানের কাছ থেকে সেটিই নতুন করে শিখছে: যুদ্ধের ভবিষ্যৎ আংশিকভাবে লুকিয়ে আছে এই ‘প্রিসাইজ মাস’ কৌশলে। এখন প্রতিটি দেশই কম খরচে তৈরি করা যায় এমন ফেলনা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের তাগিদ মেনে নেবে, যা পুরো যুদ্ধরীতি এবং সামরিক ভারসাম্যকেই পাল্টে দিচ্ছে।

যেকোনো যুদ্ধে সাধারণত মনে হতে পারে যে ধনী বা শক্তিশালী দেশগুলোই নতুন প্রযুক্তি থেকে সব সময় বেশি সুবিধা পায়। কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। নতুন প্রযুক্তি যদি অনেক দামি হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা ধনী ও প্রতিষ্ঠিত দেশগুলোর পক্ষেই যায়। কিন্তু এটি যদি সস্তা হয় এবং এটি বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে, তখন অন্য দেশগুলোও ঠিক ততটাই দ্রুত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফেলতে পারে। বাস্তবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীগুলো প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের মুখে প্রায়ই হিমশিম খায়, কারণ তাদের অতীত সাফল্য ও বিশাল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো নতুন কোনো প্রযুক্তি বা কৌশল গ্রহণ করা কঠিন করে তোলে।

অন্যদিকে ‘প্রিসাইজ মাস’ কৌশলে প্রতিটি ইউনিটকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয় এবং নিখুঁত হওয়ার অজুহাতে সময় নষ্ট না করে আক্রমণ চালিয়ে যেতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র নিখুঁত প্রযুক্তির উদ্ভাবক এবং বিশ্বের সেরা সামরিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেন এই ‘প্রিসাইজ মাস’ কৌশলের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারছে না, তা এখান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত সামরিক সরঞ্জাম কেনা বা পাওয়ার সুযোগ থেকে একপ্রকার বঞ্চিত ছিল। এর ফলে বাধ্য হয়েই তাদের দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ও সস্তা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাংশে বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এর পরিণতি দেখা গেল এই যুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মানের ও দামি অস্ত্রের সঙ্গে সরাসরি টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা তেহরানের ছিল না, তবে তার প্রয়োজনও পড়েনি। কারণ, তারা খুব দ্রুতগতিতে কম খরচে তৈরি করা নিখুঁত ড্রোন ও সস্তা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন ঘাঁটি ও অঞ্চলের প্রধান প্রধান অবকাঠামোর দিকে ছুড়ে দিতে পেরেছিল। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতিসাধন করেছে ঠিকই, কিন্তু তা করতে গিয়ে তারা নিজেদের গচ্ছিত রাখা টমাহক, এসএম-৬ সহ অন্যান্য মূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুড়িয়ে শেষ করে ফেলেছে।

বহু বছরের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুতির সুবাদে তেহরান এই মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি সামলে নিতে পেরেছে। যুদ্ধের আগের বছরগুলোতে ইরান তাদের ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো গড়ে তুলেছিল, যা ধ্বংস করা মার্কিন বা ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষে এ পর্যন্ত অসম্ভব প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি তাদের অত্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি বেগ পেতে হয়েছে। এর মাধ্যমে এত দিন যাবৎ বিমান হামলার যে আমেরিকান মডেল চলে আসছিল—যেখানে মূল লক্ষ্যই থাকত শত্রুর মূল অস্ত্রাগার ধ্বংস করা—সেই পুরোনো ধারণাই উল্টে গেছে। ইরান এটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে কম শক্তিশালী বা দুর্বল দেশগুলোকেও আর সামরিক ক্ষমতার লড়াই থেকে সহজে ছিটকে ফেলা যাবে না। আর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আবিষ্কার করেছে যে বড় যুদ্ধে কেবল দামি বা উন্নত অস্ত্র থাকলেই জয় সুনিশ্চিত নয়। এ কারণেই ধনী-গরিবনির্বিশেষে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ এখন ‘প্রিসাইজ মাস’ প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে।

ইরান যুদ্ধ দেখাল যে বিশ্বের প্রায় যেকোনো সামরিক বাহিনীই এখন হাজার হাজার ডলারের কম খরচে বিপুল পরিমাণ নিখুঁত আক্রমণাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু সেই আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা বা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেক বেশি ব্যয়বহুল। বিশ্বে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলারের নিচে নির্ভরযোগ্য ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র খুব কমই রয়েছে। ইরানের এই বিশাল ‘প্রিসাইজ মাস’ প্রতিহত করতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে তাদের নিজস্ব গচ্ছিত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ইন্টারসেপ্টরের ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সংকট অবশ্যম্ভাবী ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একক মনোযোগ ছিল কেবল জটিল ও দামি অস্ত্র ব্যবস্থার দিকে। তারা মূলত উচ্চ মানের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর কথা ভেবেছিল। এখন ওয়াশিংটনসহ অন্য সরকারগুলো কম খরচের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এই পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে: ইউক্রেন এখন মাত্র ১ হাজার ৪০০ ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু সামরিক সক্ষমতার ইতিবাচক দিক উন্মোচন করেছে, যা নতুন যুগের যুদ্ধরীতির জন্য বেশ উপযোগী। গত কয়েক বছরে একাধিক উৎস থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সুপারিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুদ্ধের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে এক বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। অবশ্য এই ব্যবস্থা একেবারেই যে ত্রুটিমুক্ত ছিল তা নয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই চরম গতি এআইয়ের ওপর অন্ধ নির্ভরতার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো ওয়াশিংটনের এআই–সংক্রান্ত এই সাফল্য এসেছে উন্নত ডেটা আর্কিটেকচার এবং ২০২৫ বা তার আগের এআই মডেলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের কারণে। অর্থাৎ কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা ‘এজিআই’ অর্জনের যে দৌড় চলছে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রধান চালিকা শক্তি নয়। বাস্তবে ওপেন-সোর্স এআই মডেলগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য যেকোনো দেশ বা সামরিক বাহিনীও এই ধরনের সিদ্ধান্ত-সহায়ক এআই টুল তৈরি করে নিতে পারবে।

মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে দিল যে ‘প্রিসাইজ মাস’-এর যুগ এসে গেছে। তেহরান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি কম শক্তিশালী দেশও একটি মহাশক্তিধর দেশকে স্থবির ও কোণঠাসা করে ফেলতে পারে। বিশ্বজুড়ে এখন শক্তিশালী দেশগুলোও এই কম খরচের আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করবে, কারণ সস্তা অস্ত্রের হামলা ঠেকানোর খরচ অনেক অনেক বেশি। বিশ্ব যখন এই শিক্ষা গ্রহণ করছে, যুক্তরাষ্ট্রকেও তা গ্রহণ করতে হবে। কেবল দামি, জটিল ও কষ্টসাধ্য অস্ত্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা দিয়ে আর যুদ্ধে জেতা বা মিত্রদের রক্ষা করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন চীনকে ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারও যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত খালি হয়ে আসছে। যে আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তারা সারা জীবন কেবল দামি ও জটিল অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত, তাদের পক্ষে এই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। যদি তাদের সামরিক বাজেট কমে যায়, তা পেন্টাগনকে তাদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুরোনো ও প্রমাণিত ব্যবস্থার দিকে আবার ঠেলে দিতে পারে। আমেরিকানদের আশা করা উচিত যে ওয়াশিংটন এই সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে নেবে। আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনগুলো ধনী ও গরিব দেশগুলোর সামরিক ক্ষমতার পার্থক্যকে—অন্তত আক্রমণাত্মক ক্ষমতার দিক দিয়ে—কমিয়ে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক ক্ষেত্রে তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের সামনে ‘প্রিসাইজ মাস’ গ্রহণ করা এবং স্নায়ুযুদ্ধ কেবল শেষ হলো বলে ধরে নেওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

কুড়িগ্রামে তথ্য অধিকার দিবসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর

আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা…

6 minutes ago

সংকটাপন্ন ঋণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা, নীতি শিথিলের সমালোচনা

দেশের ব্যাংক খাতে সংকটাপন্ন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা, যা…

8 minutes ago

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে যাওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেদনাদায়ক আঘাত ভোগ করার পর…

17 minutes ago

কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, মঙ্গলবার জবাবের আশা আরাগচির

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে পরোক্ষ আলোচনা…

25 minutes ago

নলছিটিতে গাছ না লাগিয়েই ১৮ হাজার বৃক্ষরোপণের ভুয়া প্রতিবেদন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কোনো গাছ না লাগিয়েই সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি…

28 minutes ago

সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, আশ্বস্ত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক না হয় এবং এর মাধ্যমে কেউ যেন…

36 minutes ago

This website uses cookies.