একটি সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমে যাওয়া, বিরোধী দলের শক্তি বৃদ্ধি কিংবা রাজপথে বড় আন্দোলনই কেবল সরকারের দুর্বলতার কারণ নয়। সরকারের প্রকৃত দুর্বলতা অনেক আগেই শুরু হয়—বাজার, থানা, হাসপাতাল, রাস্তা, ব্যাংক, সরকারি অফিস এবং সাধারণ মানুষের পরিবারের মাসিক হিসাবের খাতায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, একটি সরকারের শক্তি তার বলপ্রয়োগের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে আইন কার্যকর করার দক্ষতা, নাগরিক সেবা প্রদান, অর্থনীতি পরিচালনা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখার ক্ষমতার ওপর। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল দেশে নাগরিকরা বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, নিরাপদ চলাচল ও দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতায় সরকারের উপস্থিতি অনুভব করেন। মানুষের আয় কাগজে হয়তো একই আছে, কিন্তু যদি ১০ হাজার টাকায় আগে যে বাজার করা যেত, এখন তার জন্য ১৩ বা ১৪ হাজার টাকা লাগে, তবে প্রকৃত অর্থে তার আয় কমেছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নাগরিক আস্থা অর্জনের জন্য অপরিহার্য বলা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মসংস্থানের সংকট। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু তাদের জন্য উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারা কেবল অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে এটি রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদনে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং খাতের চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।
সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি ভয় নয়, বরং বিশ্বাস। যখন সাধারণ মানুষ অনুভব করে যে আইন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে এবং অন্যায়কারীর শাস্তি হবে, তখনই রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা মানুষকে উল্টো শিক্ষা দেয়, তখন সরকারের দুর্বলতা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ, নিত্যপণ্যের দাম যখন মানুষের আয়কে ছাপিয়ে যায়, তখন মুদ্রানীতি বা বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সরাসরি রান্নাঘরে প্রভাব ফেলে। একইভাবে, যানজট কেবল সময়ের অপচয় নয়, এটি সরকারের দূরদর্শিতার ঘাটতি ও নাগরিক উৎপাদনশীলতা হ্রাসের একটি সূচক।
সরকার আরও দুর্বল হয় যখন নীতি ও সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন থাকে না। বাংলাদেশে নীতি বা টাস্কফোর্সের অভাব নেই, সমস্যা হলো সিদ্ধান্ত ও ফলাফলের মধ্যকার দূরত্ব। দায়িত্ব স্থানান্তরের সংস্কৃতি—যেখানে এক মন্ত্রণালয় অন্যকে দায়ী করে—নাগরিকদের হতাশ করে। এছাড়া নীতির অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করে, যার ফলে অর্থনীতি ঝুঁকি এড়ানোর দিকে ধাবিত হয়। ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আর্থিক অবস্থা এক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের ব্যর্থতাও সরকারের দুর্বলতার একটি বড় কারণ। সরকার যদি সময় চায়, তবে সেই সময়ের যুক্তি এবং সংস্কারের নির্দিষ্ট রূপরেখা নাগরিককে জানাতে হবে। কেবল ‘আমরা কাজ করছি’ জাতীয় বক্তব্য দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। একটি শক্তিশালী সরকার সেটিই, যাকে নাগরিক কার্যকর মনে করেন। সরকারকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, সময়াবদ্ধ উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কর্মসংস্থান ও প্রকৃত আয়কে রাখা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভুল স্বীকার করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা।
প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে জাকার্তায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। দলে যোগ দিয়েছেন…
প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)…
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই এবং হালনাগাদের জন্য সাত…
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্পেসএক্সের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে এয়ারলাইন সেবায় প্রবেশ করছে অ্যামাজন। ২০২৭ সাল থেকে…
নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে ভাত খাওয়া ও চুরির স্বীকারোক্তি…
বার্লিন ব্রান্ডেনবার্গ বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়ের ওপর ড্রোন দেখা দেওয়ায় বুধবার ৪৫ মিনিটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ…
This website uses cookies.