বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়ির অব্যবহৃত ছাদকে একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত করার এক অভিনব সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করলে ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা পাওয়া যাবে।
এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অর্থনৈতিক হিসাবটি বেশ আকর্ষণীয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা। এই ব্যয়ের সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। এর ফলে গ্রাহকদের জন্য বার্তাটি কেবল পরিবেশ রক্ষার নয়, বরং নিজের বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে বাড়তি আয়ের একটি বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি করা।
এই ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় হতে পারে। দেশটি কেবল নীতি ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সহজ সংযোগ, আকর্ষণীয় ট্যারিফ ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেছে। বাংলাদেশেও ভালো নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় জটিল প্রক্রিয়া। তাই নেট মিটারিং, অনুমোদন, কারিগরি পরীক্ষা, গ্রিড সংযোগ ও অর্থ পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল ও একটি কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় আনা জরুরি। গ্রাহকেরা যেন সোলার বসাতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ক্লান্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাধারণ মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে টেলিভিশন, সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংক ও স্থানীয় প্রশাসনকে যুক্ত করে সহজ ভাষায় হিসাবনিকাশসহ প্রচার চালাতে হবে। বাংলাদেশে কৃষিজমি ও বসতির ওপর চাপের কারণে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি পাওয়া কঠিন। অথচ দেশের বাসাবাড়ি, কারখানা, গুদাম, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ছাদ অব্যবহৃত পড়ে আছে। ছাদে সোলার বসালে নতুন জমির প্রয়োজন হয় না এবং যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, তার ঠিক পাশেই উৎপাদন সম্ভব হয়।
এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কয়লা বা এলএনজির মতো আমদানিনির্ভর জ্বালানির জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলারের প্রয়োজন হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিতে থাকে। কিন্তু সূর্যের আলোর জন্য কোনো ডলার বা আমদানি খরচের প্রয়োজন নেই এবং এটি কার্বন নিঃসরণমুক্ত। তবে রাতের উৎপাদন, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, মেঘলা আবহাওয়া এবং গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো কারিগরি চ্যালেঞ্জগুলোও মাথায় রাখতে হবে।
পাশাপাশি, জীবাশ্ম জ্বালানির বড় অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই সরকারকে তার নীতিতে সৎ ও অটল থাকতে হবে। আজ প্রণোদনা দিয়ে কাল নিয়ম পরিবর্তন করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হবে। বাজারে যাতে নিম্নমানের প্যানেল, ব্যাটারি বা ইনভার্টার প্রবেশ করতে না পারে এবং গ্রাহকেরা যেন সময়মতো ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের পাওনা টাকা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়ম সহজ ও বাজার বিশ্বাসযোগ্য হলে মানুষ নিজের স্বার্থেই ছাদে সোলার বসাতে এগিয়ে আসবে, যা দেশের পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…
বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…
This website uses cookies.