Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

তরুণ প্রজন্মের কাছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও প্রেরণা

কিছু রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতায় থাকেন, আবার কেউ কেউ মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নেন। বেগম খালেদা জিয়া সেই বিরল নেতাদের একজন, যিনি কেবল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলেই নয়, বরং একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক কল্পনার অংশ হয়ে উঠেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় শক্তি ছিল তরুণদের সঙ্গে গভীর সংযোগ এবং নারীসমাজের কাছে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন লড়াই করতে জানা এক অদম্য নেতার প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার উত্থান ছিল অস্বাভাবিক। রাজনীতির পেশাদার পরিবার থেকে না এলেও, স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি দ্রুত নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই দৃঢ়তা কেবল বক্তব্যে নয়, বরং সিদ্ধান্ত ও আচরণেও দৃশ্যমান ছিল। তরুণরা সাধারণত এমন নেতৃত্ব চায় যা চাপের মুখেও মাথা নত করে না এবং পরাজয়ের পরও ফিরে আসার সাহস রাখে। খালেদা জিয়ার জীবনে এই বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল স্পষ্ট।

ম্যাক্স ওয়েবারের নেতৃত্ব তত্ত্ব অনুযায়ী, তার মধ্যে ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল। তার জনপ্রিয়তা কেবল দলের সাংগঠনিক বিস্তারের ফল ছিল না, বরং তার ব্যক্তিত্ব ও সাহসের প্রতি অনুসারীদের অসাধারণ আস্থার প্রতিফলন ছিল। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভাষাকে তিনি তরুণদের কাছে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা থাকলেও, প্রতিকূল সময়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখার মানসিকতা তরুণদের কাছে তাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

হাসিনা সরকারের শাসনামলে মামলা, কারাবাস ও নিপীড়নের মুখেও তিনি রাজনৈতিক মাঠে অটল ছিলেন। তার এই লড়াকু মানসিকতা জুলাই বিপ্লবের তরুণদের কাছেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দুই সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের জায়গাটি তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। নারীদের কাছেও তিনি একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে আলাদা সম্মানের পাত্র, যিনি সব বাধা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

ভোটের রাজনীতির প্রতি তার আস্থা ছিল অটুট। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয় লাভ করা তার ব্যক্তিগত ভোট-আকর্ষণের একটি শক্তিশালী প্রমাণ। তিনি কেবল দলীয় নেত্রী নন, বরং রাজপথের আন্দোলন ও ব্যালটের লড়াইয়ে সমান সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে প্রশ্ন উঠছে তার উত্তরাধিকার নিয়ে। নতুন প্রজন্ম তার কাছ থেকে কেবল দলীয় স্লোগান নেবে নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা অর্জন করবে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। ফুল, ব্যানার বা মিছিলের বাইরে তাকে নতুন করে পাঠ করার সময় এসেছে। যতদিন তার লড়াইয়ের গল্প নতুন প্রজন্মকে প্রশ্ন করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে, ততদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার নাম কেবল অতীতের অধ্যায় হয়ে থাকবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়লেন স্পিন জাদুকর মেহেদী মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন মেহেদী হাসান…

3 minutes ago

ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৪ দিনেই অস্ট্রেলিয়া বধ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে এসে এক দিনেরও বেশি সময় হাতে রেখেই এক…

9 minutes ago

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র…

19 minutes ago

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার…

26 minutes ago

ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে আরাবি হোসেন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে…

39 minutes ago

অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

41 minutes ago

This website uses cookies.